এনআরসিতে ভুয়া অভিযোগে হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হিন্দ জমিয়ত

এনআরসিতে ভুয়া অভিযোগে হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হিন্দ জমিয়ত

এনআরসিতে ভুয়া অভিযোগে হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হিন্দ জমিয়ত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিথ্যা অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে ভারতে সংখ্যালঘু নাগরিকদের পরিচয়কে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এমন প্রমাণ সামনে আসায় জোরালো হয়ে ওঠা এসব মিথ্যা অভিযোগের সমাধান খুঁজতে তৎপর হয়ে উঠেছে জমিয়তে উলামা হিন্দ ও ভরতের সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো।

এনআরসিতে নাম ওঠার পরেও ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে শুনানি কেন্দ্রে টেনে এনে বারবার লাঞ্ছিত করছে। এই লাঞ্চনা বন্ধে আদালতের হস্তক্ষেপ ও দিক-নির্দেশ চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন আমসু।

অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়ার বদলে ভিন্নভাবে এই ভয়ানক সমস্যার সমাধান খোঁজার কাজে নেমেছে আসামের জমিয়তে উলামা হিন্দ।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন এজলাসে এনআরসি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেই মৌখিক আবেদন জানিয়ে হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চলেছে আমসু।

নাগরিকপঞ্জি নবায়নের দাবি-আপত্তি পর্বে এনআরসিছুট ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে যেমন পুনঃআবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তেমনই এনআরসির সম্পূর্ণ খসড়া তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর জন্য পথ খুলে দিয়েছিল কেন্দ্র সরকারের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি।

কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী কেউ কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ জানিয়েছে বলে প্রমাণ হলেও তাতে প্রাথমিক শাস্তির বিধান নেই। এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা আদালতকে জানিয়েছে এই পরিস্থিতিতে দাবি-আপত্তি পর্বের আবেদন জানানোর শেষ দিনে প্রায় দু’লক্ষের‌ও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

দাবি-আপত্তি পর্বের শুনানি পর্যায় শুরু হতেই ওই দু’লক্ষাধিক আপত্তির ভিত্তি ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় শুনানিতে ডাক পেয়ে এনআরসিতে নাম থাকা ব্যক্তিরা তাদের সম্পর্কে দাখিল হওয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে দেখেছেন, যিনি অভিযোগ জানিয়েছেন তিনিই বেপাত্তা। অভিযোগকারীদের নাম, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বরও সঠিক নয়। মিথ্যা অভিযোগে ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের‌ ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে মনে করেন সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো।

গত ডিসেম্বরে শতাব্দী রায় বিজেপির সমালোচনা করে বলেছিলেন, বিজেপি সরকার আসামের মানুষদের ভয় দেখিয়ে রেখেছে, হুমকি দেয় কিন্তু তারা ভরসা পেয়েছেন তৃণমূল তাদের পাশে আছে। মমতা ব্যানার্জি তাদের সঙ্গে আছেন। সেই বিশ্বাস আমরা তাদেরকে দিয়ে এসেছি। যে উন্নয়ন পশ্চিমবঙ্গে হয়েছে সেই উন্নয়ন আসামে হবে সেটা জানিয়ে এসেছি। এজন্য শুধু ওই রাজ্যে পরিবর্তন দরকার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *