দিবস নয়; বদর আমাদের চেতনার নাম!

দিবস নয়; বদর আমাদের চেতনার নাম!

দিবস নয়; বদর আমাদের চেতনার নাম!

আবদুর রহমান কোব্বাদী : অসহনীয় যন্ত্রণা, অত্যাচারের বিভীষিকা ও কাফির মুশরিকদের সম্মিলিত চক্রান্তে ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে মজলুম মুসলমানদের নতুন নিরাপদ ঠিকানা “ইয়াসরাব” মদীনা।

সন্ত্রাসী উগ্র জঙ্গীবাদের অত্যাচারে প্রিয় নবী সা. তার জন্ম ভূমিতে নিরাপদ ছিলেন না। আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়ে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। যার পূর্ব নাম ছিল ‘ইয়াসরাব’ পরবর্তীতে নবী সা.-এর আগমনে নামকরণ করা হয় ‘মদীনাতুর রসূল’।

তুলনামূলক নিরীহ দুর্বল মুসলমানদের প্রতি কাফির-মুশরিকদের আগ্রাসী মনোভাব কোনোভাবেই কমেনি।

ইসলামের অগ্রযাত্রা তাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ালো। শুরু হলো মুসলমানদের সমূলে ধ্বংসের প্রস্তুতি। অর্থনৈতিক ফান্ড গঠনের লক্ষে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ বনিকদের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হল ব্যবসায়িক মূলধন। যার লভ্যাংশ থেকে পরের বছর চূড়ান্ত লড়াইয়ের ফান্ড তৈরি হবে।

এদিকে আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল আ. -এর মাধ্যমে নবী সা.-কে জানিয়ে দিলেন তাদের পরিকল্পনার কথা।

মক্কায় রটে গেল আবু সুফিয়ানসহ বণিক দলের উপর আক্রমণ করতে চলেছে মুসলমানদের মুজাহিদ বাহিনী।

হিংসা পরায়ন উগ্র সন্ত্রাসী কাফির নেতারা মুসলমানদের সমূলে নির্মূল করার মহা সুযোগ পেয়ে গেল। মুসলিম ধ্বংসে যুদ্ধ দামামা বেজে উঠল পুরো মক্কায়।

প্রায় এক হাজার সশস্ত্র প্রশিক্ষিত সৈন্যবাহিনী নিয়ে রওনা হলো মদিনার দিকে।

এদিকে কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিজেদের ধন-সম্পদ রেখেই মদিনায় পাড়ি জমানো সাবায়ে কিয়াম এখনো দারিদ্রতার ধাক্কায় স্থির হতে পারেননি। স্থানীয় আনসাররা যার যতটুকু আছে তা দিয়েই সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। সে মূহুর্তে যুদ্ধে জড়ানোর বাহ্যিক প্রস্তুতি নেই কারো মাঝেই।

রক্ত পিপাসু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তাদের পূর্ণ শক্তি নিয়ে মদিনার পথে। খবর পৌঁছে গেল মদিনার ঘরে ঘরে। বাহ্যিক প্রস্তুতিহীন ৩১৩-১৫ জনের কাফেলা র‌ওনা হলো তৎকালীন পরাশক্তি সশস্ত্র প্রশিক্ষিত কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।

যুদ্ধময়দানে পৌঁছে বিশ্বনবী সা. দুহাত আল্লাহর কাছে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করলেন। পরাক্রমশালীর সাহায্য চাইলেন।
তাকওয়া এবং সবরের শর্তে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলমানদেরকে বিশাল বিজয় দান করলেন।

এটা শুধু নিছক যুদ্ধ ছিলনা। এটা ছিল একটি উম্মার জয় পরাজয়ের উপমা তৈরীর ক্ষেত্র।
বস্তুবাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া, জয় পরাজয়ের নির্ণয়ক শুধু বাহ্যিক শক্তি নয়।

জামানার ফেরাউন আবু জাহেল পরাস্ত হলো মুসলিম কিশোর যোদ্ধাদের আক্রমণে।
উতবা শায়বা উমাইয়াদের হারিয়ে দীর্ঘদিনের অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে হয়ে গেল কুরাইশ কাফেরদের।

সে বদর এখনো আমাদের চেতনা। সংখ্যা বা শক্তির বিচারে নয়। মূলত মুসলমানের বিজয় আসে তাকওয়া ও সবরের মাপকাঠিতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *