রোজা ভেঙে হিন্দু মেয়েকে রক্ত দিয়ে ওসমানের সম্প্রীতির নজীর
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুসলিম কিসকু ক্যাহতে হে। জিসনে আওর এক ভাইকে লিয়ে আগে বাড়তেহে ইসকুতো মুসলিম ক্যাহতে হে। ভারতের নদিয়ার ওসমান গনি শেখর বিশ্ব মুসলিমের প্রেমময় অধ্যায়কে আবারও দেখিয়ে দিলেন। নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে একজন হিন্দু মেয়েকে তিনি সুস্থ করে তুললেন। অসাম্প্রদায়িক এই চেতনাই শাইখুল আরব ওয়াল আজম শাইখুল ইসলাম সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে বিস্তার করতে চেয়েছিলেন।
ধর্ম ভিন্ন হবে বিশ্বের মানুষ তো সবাই মানুষ। তাদের একটাই পরিচয়। রক্ত একই কালারের। মানবিক একটা বিষয় আছে। সেটা মুসলমানদের আছে। ইসলামের শিক্ষাও সেটাই। যেখানে ভারতে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চরমে, ঠিক সেই মুহূর্তে সম্প্রীতির নজির গড়লেন ওসমান গনি শেখর নামে এক যুবক। রোজা থাকা অবস্থায় হিন্দু মেয়ে রাখিকে রক্ত দিয়ে প্রাণে বাঁচিয়েছেন তিনি।
ভারতের নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ঘটেছে ঘটনাটি। জানা গেছে, পলাশিপাড়ার ১০ বছরের রাখি দাস থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। জীবন বাঁচাতে নির্দিষ্ট সময় পর পর রক্ত দিতে হয় তাকে। গত কয়েকদিন ধরে হন্যে হয়ে তার জন্য রক্ত খুঁজছেন মা তাপসী দাস। কিন্তু শূন্যহাতে ফিরতে হয়েছে একাধিক ব্লাড ব্যাংক থেকে। কারণ রক্ত শূন্যতায় ধুঁকছে ব্লাডব্যাংকগুলো।
এদিকে গরম চরমে, তাই ভোটের মওসুমে সেভাবে রক্তদান শিবির না হওয়ায় সব ব্লাড ব্যাংকেই প্রয়োজনের তুলনায় রক্তের সংগ্রহ কম। সে কারণে যে ব্লাডব্যাংকেই গেছেন ফিরে আসতে হয়েছে তাপসীকে। শুনতে হয়েছে, ডোনার নিয়ে আসার কথা। কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে ততক্ষণে রক্তের অভাবে ধুঁকছে তার মেয়ে।
অসহায় মা তার এক প্রতিবেশীকে ডোনার জোগাড় করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তার পরই যোগাযোগ হয় ওসমান গনি শেখের সঙ্গে। শনিবার কৃষ্ণনগরে পরিবারের জন্য ঈদের বাজার করতে গিয়েছিলেন ওসমান। তাপসীর প্রয়োজন শুনে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। সেখানকার ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দেন। তার পরই রক্ত পেয়ে জীবন বাঁচে তাপসীর ছোট্ট মেয়ে রাখির।
এবার নিশ্চিন্ত তাপসী। যেভাবে সব শুনে দ্রুত ছুটে এসে তার মেয়েকে রক্ত দিয়েছেন ওসমান, তা দেখে রীতিমতো আপ্লুত তিনি। অন্যদিকে ওসমানও খুশি এভাবে ছুটে আসতে পেরে।
ওসমান বলেন, আমার একটাই উদেশ্য, রক্তের জন্য যেন কারো প্রাণ না যায়। সবার কাছে আবেদন জানাচ্ছি মানুষের প্রয়োজনে রক্ত দিতে এগিয়ে আসুন সবাই।


