অপরিকল্পিত নগরায়ণ থেকে বাঁচতে চাই
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরিকল্পনা একটি সতত সুন্দর পথ ও পদ্ধতির নাম। পরিকল্পনা ছাড়া ভালো কাজও গুরুত্ব রাখে না। সমাজের উল্টো স্রোতকে মূল স্রোতে প্রবাহিত করতে ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় অবস্থান পর্যন্ত পরিকল্পনার বড় প্রয়োজন। আর নগরায়ণ- সে তো এক বৃহৎ পরিকল্পনা ছাড়া কখনোই গতি পেতে পারে না।
অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানী ঢাকা অচল নগরীতে পরিণত হওয়ার মতো ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন। আবাসিক এলাকায় শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শপিং মল থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় যানজটের অভিশাপে ভুগছে প্রতিটি অলিগলি ও আবাসিক এলাকা। স্যুয়ারেজ-ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ সব সেবা প্রদানে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।
শহরজুড়ে ঝুলছে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগের তার। পর্যাপ্ত পার্কিং ছাড়া গড়ে উঠছে শপিং কমপ্লেক্স, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নানা প্রতিষ্ঠান।
একই ভবনের নিচে শপিং কমপ্লেক্স, ওপরে বিশ্ববিদ্যালয়, আবার পাশেই চলছে গার্মেন্ট বা শিল্পকারখানা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ বেসামাল করে তুলেছে রাজধানী ঢাকাকে। বাড়িয়ে তুলেছে নাগরিক ভোগান্তি। সত্তরের দশকের শেষ ও আশির দশকের শুরুতেও ঢাকায় গার্মেন্ট ও শিল্পকারখানা থাকলেও তখন জনসংখ্যা ছিল পরিমিত। যানজট থাকলেও ছিল না অসহনীয় পরিস্থিতি। কর্মসংস্থানের তাগিদে সময়ের সঙ্গে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে ঢাকার জনসংখ্যা।
একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় তৈরি হয়েছে একের পর এক গার্মেন্ট, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুরের মতো আবাসিক এলাকাগুলো পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক এলাকায়।
আবাসিকের পাশাপাশি চলছে শপিং কমপ্লেক্স, হোটেল-রেস্তোরাঁ, অফিস, গার্মেন্ট ও ছোট-মাঝারি কারখানা। যেখানে সেখানে স্কুল-কলেজ, কোচিং সেন্টার গড়ে ওঠায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অলিগলিতে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আবাসিক এলাকায় বাসাবাড়িতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে শুভঙ্করের ফাঁকি দিতে সুবিধা হয়। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি বিল আবাসিক হিসেবে পরিশোধ করা যায়। বাড়ির মালিকরাও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিলে বেশি ভাড়া পান। দুই পক্ষের লাভ ও লোভের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে নগরজীবন। রাজধানীতে বিশুদ্ধ আবাসিক এলাকা এখন সত্যিকার অর্থেই সীমিত হয়ে পড়েছে। রাজউক বা সরকারি তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা সব আবাসিক এলাকা তার বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে বহু আগে।
রাজধানীকে বসবাসের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে যথেচ্ছতার অবসান ঘটাতে হবে। অনিয়ম বন্ধ করে সব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়াটা জরুরি। এটি দুই সিটি করপোরেশনসহ সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত বলেই আমরা মনে করি।


