শিবির নেতা কওমিতে ঢুকিল কেমনে

শিবির নেতা কওমিতে ঢুকিল কেমনে

শিবির নেতা কওমিতে ঢুকিল কেমনে

মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ : কওমি অঙ্গনে জামাতের বীজ ঢুকেছে আরও আগে। সবখানে নয়; চিহ্নিত কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে রয়েছে তাদের যোগশাযশ। কিন্তু এমন নগ্নভাবে কোনো শিবির নেতার দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। দেশ ও ধর্মের শত্রু এ সংগঠনটি আর কোথাও স্থান না পেয়ে কাওমী ঘরানায় আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ খুঁজছে। ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে রইল। আমাদের মহলের কিছু কুচক্রি ও স্বার্থান্বেষীর কারণেই নরকের কীট জামাতিরা এমন দুঃসাহস করতে পারল। আমি স্পষ্ট বলব, এ ঘটনায় কেউ ইতিবাচক কোনো দিক খোঁজার চেষ্টা করবেন না।

দেওবন্দী ধারার মাদরাসাগুলোর একটি জামাতবিরোধি পুরনো ট্রাডিশান আছে। আকিদা বিশ^াস ও চিন্তা চেতনায় আকাবিরদের পথ থেকে কেউ বিচ্যুতির ভাব দেখালে তাকে সাথে সাথে মাদরাসা থেকে বহিষ্কারের রীতি রয়েছে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের চেতনার বিপরীত কোনো চিন্তা এসব মাদরাসায় প্রশ্রয় দেওয়া সত্যি এক অশনিসংকেত। গভীরভাবে বিষয়টিকে তলিয়ে দেখতে হবে আমাদেরকে।

এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বিলম্ব না করে হাইয়াতুল উলইয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন বলেই আমার বিশ^াস। পরিচয় আত্মগোপনকারী ছদ্মবেশে পরীক্ষা দেওয়া শিবির নেতার পরীক্ষা বাতিল করার দবিী আজ কাওমী ঘরানার প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীর প্রাণের দাবি। এ দাবি নেতৃবৃন্দ কোনোভাবেই অবজ্ঞা করতে পারেন না। মিঃ মওদুদির দেশ ও মানবতাবিরোধী বিকৃত ধর্মাদর্শ থেকে তাওবা না করলে কোনো শিবির কর্মীকে যেন হাইআতুল উলইয়া থেকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া না হয়। বরং আমরা দাবি করব এসব জঙ্গি মনোভাবাপন্ন উগ্রবাদীদেরকে বাংলাদেশের স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি বা মাদরাসা কোনো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকেই যেন পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া না হয়। সরকারের কাছে আমাদের এ মর্মে হাইআতুল উলইয়ায় নতুন আইন সংযোজনের আহ্বান জানাই। ইসলামের মজবুত দুর্গ কাওমী মাদরাসাকে সবধরনের বিকৃতি ও কুচক্রি মহলের চক্রান্ত থেকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতনতা কাম্য।

এখনও পর্যন্ত এদেশের সাধারণ মানুষের অন্তরে মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকদের প্রতি রয়েছে অন্য রকম ভালবাসা। যদি একথা প্রচার পেয়ে যায় যে, কাওমী অঙ্গন হয়ে গেছে জামাত শিবির রাজাকারদের বিচরণ ক্ষেত্র তাহলে চরম ঘৃণা ছড়িয়ে পড়বে সমাজে এই নিরীহ তালিবুল ইলমদের প্রতি। একপর্যায়ে মাদরাসা শিক্ষা বন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ হেফাজত করনেওয়ালা। অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনার জন্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের যথাযথ বিচার হওয়া উচিত।

লেখক : আলেম ও ইসলামী ফিকহ বিশেষজ্ঞ।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *