পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রবিউল আওয়াল মাস আল্লাহর শোকরিয়া আদায়ের মাস। এমাসে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান করা উচিৎ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
শুক্রবার (০১ নভেম্বর)জুমআর নামাজের আগে রাজধানীর জামিআ ইকরা বাংলাদেশ সংলগ্ন ঝিল মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, শরীয়তের আলোকে বছরের শ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান মাস। আর, তাকবিনিয়্যাতের আলোকে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো রবিউল আওয়াল। এমাসে আল্লাহ তা’আলা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-কে সৃষ্টি করেছেন। এটা পৃথিবীবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এই নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করার জন্য সারা মাস সিজদায় পড়ে থাকলেও আদায় হবে না। আমাদের উচিৎ হলো, এমাসে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বর্জন করে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা। শোকরিয়া আদায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হলো নামাজ। নবীজী সা. বলেছেন, আমার চোখের শীতলতা হলো নামাজ।
শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে রমজান ও রবিউল আওয়ালের পার্থক্য তুলে ধরে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আল্লাহর সৃষ্টি দুই ধরণের। প্রথম প্রকার হলো কুদরতের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন- আসমান, জমিন, পাহাড়, পর্বত ইত্যাদি। দ্বিতীয় প্রকার হলো আহকামাতের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন- নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি। আহকামাতের সম্পর্ক হলো শরীয়তের সাথে আর শরীয়ত অনুযায়ী জান্নাত জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হবে। শরীয়ত অনুযায়ী সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার, শ্রেষ্ঠ রাত হলো লাইলাতুল কদর। আর তাকবীনের আলোকে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো রবিউল আওয়াল, সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো সোমবার দিন।
নবীজী সা.-এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সমস্ত সাহাবী, গাউস, কুতুব, পীর, বুযুর্গের যত শ্রেষ্ঠত্ব আছে সব একত্রিত করলেও রাসূলের কদম পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। সমস্ত নবীগণের সারা জীবনের আমল যদি রাসূলের একরাত্রির আমলের সাথে তুলনা করা হয় তবে রাসূলের আমলের মর্যাদা অধিক হবে।
আল্লামা মাসঊদ রবিউল আওয়াল মাসে নবীজী সা.এর উপর বেশি বেশা দুরুদ শরীফ পড়ার আহ্বান জানান।


