যুদ্ধ
নক্ষত্রেরও পতন হয়-
এই তথ্য বাবাকে দিতেই
তিনি বের করলেন সব পুরাতন দৈনিক পত্রিকা
দেখিয়ে দিলেন
বিংশ শতাব্দীর সব পতন মানুষের
সব পতন হৃদয়ের।
বাবা পতন দেখাতে গিয়ে
বের করলেন স্কুলের সার্টিফিকেট
ক্ষয়ে যাওয়া জুতো
মাটির ব্যাংক।
আমি দেখি পত্রিকার প্রথম পাতায় লেখা
খুব ভোরে খুন হয়ে গেছে জীবনের।
একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে উঠেনি অনেকে
কেউ স্কুল পালানো ছেলে
কেউ কলেজপড়ুয়া ছাত্র
কেউবা মোড়ের টঙে বসে সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ফেলা শিক্ষিত।
বাবা ধীরে ধীরে দেখান
নক্ষত্রের পতন নেই কোথাও;
অথচ আমি দেখি
একটা লাশ তাঁর কাঁধজুড়ে
একটা হাহাকার তাঁর বুক ভর্তি।
পত্রিকার শিরোনামে বড় করে লেখা যুদ্ধ না শান্তি!
আমি ও বাবা আলোচনায় বসলাম
আলোচনা দীর্ঘায়িত হল।
বাবা বললেন শান্তি, যখন বাবার লাশ কাঁধে নেয় সন্তান
আমি স্বপ্ন দেখি একটা যুদ্ধের
সব বাবাদের কাঁধে একটা করে লাশ
যা আর টানা যাচ্ছে না মানুষজন্মে।
বাবারা কি জানে?
বাবা চাইলেন আমরা যেন হয়ে উঠি
তার বন্ধুর ছেলের মত
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার না’হলেও অন্তত সরকারী চাকুরে।
মা চাইলেন আমরা যেন হই ঘরকুনো
তার যুবতী বান্ধবীর কোলে থাকা মেয়েটার মত চুপচাপ।
অথচ তাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে
আমরা হয়ে উঠলাম নিঃসঙ্গ
দুপুরের চায়ের দোকানদার জানে
আমরা হয়ে উঠছি কতটা অভাবী!
জোড়া স্যান্ডেল জানে
আমাদের পায়ের নিচে কতটুকু মাটি।
সবচেয়ে ভারী, এই সন্তানের লাশ বাবার বুক থেকে
নিজেদের বুকে নিয়ে চলছি আজন্ম।
আমাদের বাবারা কি জানে?
লেখক পরিচিত-
নাম : শওকত হোসাইন
প্রকাশিত বই : শুক্লপক্ষ
প্রকাশিতব্য : দাঁড়কাক
মেইল : shawkathossainrobin499@gmail.com


