নাগরিকত্ব সংশোধনী লড়াইয়ে আমরা জিতবোই : মাওলানা সিদিকুল্লাহ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (পশ্চিমবঙ্গ থেকে) :: সম্মিলিতভাবে নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতার কথা জানিয়েছেন জমিয়তে উলামা হিন্দ পশ্চিমবাংলার সভাপতি ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করছি এবং আমরা এ লড়াইয়ে জিতবো ইনশাআল্লাহ।
২২ ডিসেম্বর ২০১৯ রোববার দুপুরে ভারতের পশ্চিম বাংলার ধর্মতলায় ‘নো এনআরসি, নো কেএবি’ স্লোগানে স্লোগানে কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমালোচনা করে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিশ্বের কাছে ১৩০ কোটি মানুষের এই রাষ্ট্রের মুখ পোড়াচ্ছে এ সরকার। এনআরসি এনআরসি জিগির তোলে তাদের অযোগ্যতা ও অদক্ষতাকে ঢাকতে চাচ্ছে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দিল্লীর কুচক্রীমহল ৫৬, ৫৭ ইঞ্চি বেহায়া নির্লজ্জের মতো ক্ষতি করে চলেছে ভারতবর্ষের।
পশ্চিমঙ্গের প্রায় প্রত্যেকটি জেলা থেকে মিছিলসহ সমাবেশে যোগ দেয় জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
বক্তারা বলেন, সেকুলারিজম না থাকলে ভারত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।দেশপ্রেমী শান্তিপ্রিয় মানুষ কখনোই এনআরসি বাস্তবায়িত হতে দেবে না।
ভারত ইসরাইলের মতোই চক্রান্ত করছে বলে দাবি করে বক্তারা বলেন, ইসরাইল যেমন সংকীর্ণমনা ইহৃদিরা চক্রান্ত করে সারা বিশ্ব থেকে ইহুদি একত্র করছে তেমনি ভারত সরকারও তা-ই চাচ্ছে। তা আমরা কিছুতেই মানবো না।
বক্তারা বলেন, আমরা মানবিক সরকার চাই। সরকার প্রেমি সরকার চাই। মানুষের ভোটে পাস হওয়া সরকার মানুষের কথা ভাবা উচিত।
এনআরসিতে পূর্বপুরুষদের মুখে চুনকালি পড়বে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা বলেন, এ সরকার আমাদের আগের পুরুষদের আদর্শ থেকে দূরে সরে এসেছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল যদি এখনই তুলে নেওয়া না হয়, আহলে অমিত শাহকে কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে বেরতে দেব না। রবিবার কলকাতা থেকে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন জমিয়ত-উলেমা-এ-হিন্দ নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
এদিন তিনি বলেন যে, এই আইন মানবতা বিরোধী, নাগরিক বিরোধী। যারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন, এই আইন তাদের বিরোধী। তাই এই আইন না তুললে অমিত শাহকে এয়াপোর্টেই আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিন তিনি বলেন, ‘যদি কখনও অমিত শাহ আসে, তাহলে তাঁকে এয়ারপোর্ট থকে বেরতে দেব না। এল লক্ষ লোক নিয়ে সেখানে চলে যাব আমরা।’ তিনি আরও বলেন,’ আমরা কোনও হিংসাত্মক প্রতিবাদে বিশ্বাস করি না। তবে CAA আর NRC-র প্রতিবাদ করব জান-প্রাণ দিয়ে।’
সিদ্দিকুল্লার দাবি, বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে কমেছে। উদাহরণ হিসেবে কলকাতা সহ গোটা দেশ জুড়ে যে বিক্ষোভ চলছে, সেকথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘মোদীর ৫৬ ইঞ্চির ছাতি দেশের মানুষকে ছোট করেছে। উনি ঘৃণা আর বিভেদের রাজনীতি করছেন।’
এদিনই, এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেন মোদী। তিনি বলেন, ‘এনআরসি কংগ্রেসের সময়ে পাশ হয়েছিল। তখন কি তাঁরা ঘুমোচ্ছিল? আমরা মন্ত্রিসভা কিংবা সংসদ কোথাও এনআরসি আনি নি। আমরা যেখানে শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দিচ্ছি সেইসময়ে আমরা আবার তাঁদের বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা কেন বলতে যাব।’
রবিবাসরীয় ভাষণে মোদী অবশ্য দাবি করেন এ দেশে থাকা ভারতীয় মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
গত দু’সপ্তাহ জুড়ে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং সিএএ নিয়ে দেশ জুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছে মোদী সরকার। বিক্ষোভ-মিছিল ঘিরে হিংসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লি দরিয়াগঞ্জে।
উত্তরপ্রদেশে হিংসার জেরে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনী জনসভা হলেও একে ঘিরে মোদী সরকারের পক্ষে জনশক্তির প্রদর্শন করাই বিজেপি শিবিরের লক্ষ্য বলে মনে করছে নানা মহল। বিশেষ করে এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে যে ভাবে দেশজোড়া বিক্ষোভের মুখে পড়েছে বিজেপি সরকার, তাতে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
দেশের এই উত্তেজনাপূর্ণ আবহে এ দিনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য যথেষ্ট ‘তাত্পর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


