আপনি কী পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত?

আপনি কী পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত?

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ভারত সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু সবকিছুতে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা টানেন কেন? আপনার লজ্জা করে না? আপনি কী পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হয়ে গিয়েছেন? আপনাকে কি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বানানো হয়েছে?’

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন। মমতা বলেন, ‘আপনি হিন্দুস্তানের (ভারতের) কথা বলুন, পাকিস্তানের কথা বলবেন না। আমরা পাকিস্তানের কথা শুনতে চাই না। আমরা পাকিস্তানকে চাই না। আমরা হিন্দুস্তানকে (ভারত) চাই। পাকিস্তানের কথা বলা বন্ধ করুন। আমরা পাকিস্তানকে সমর্থন করি না। আমরা ভারতকে সমর্থন করি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে এসব কী হচ্ছে? যদি কেউ বলে আমরা বেকার, আমাদের চাকরি দিন, বলা হচ্ছে পাকিস্তানে চলে যাও! যদি কেউ বলে আমাদের খাবার দিন, তো বলা হচ্ছে পাকিস্তানে চলে যাও! যদি কেউ বলে আমাদের নাগরিক অধিকার কেন কেড়ে নেওয়া হবে তাহলে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে! এসব কেন বলা হচ্ছে? সব কথায় কেবল পাকিস্তানের নাম? ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে কেবল পাকিস্তানের কথা বলছেন!’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতীয় হিসেবে গর্ববোধ করি। আজকে কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রী বলবে পাকিস্তানে গিয়ে চর্চা করো! পাকিস্তানে গিয়ে চর্চা করার আমাদের প্রয়োজন নেই। পাকিস্তানের আলোচনা পাকিস্তান করুক। কিন্তু আমরা ভারতের আলোচনা করব কারণ এটা আমদের দেশ, এটা আমাদের মাটি, এটা আমাদের জম্মভুমি।’

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’, জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন বা ‘এনপিআর ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সিএএ-এনপিআর-এনআরসি’র নামে মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

মমতা বলেন, ‘আমরা সবাই স্বাধীন দেশের নাগরিক। এপর্যন্ত এতগুলো সরকার আমরা গঠন করেছি। কিন্তু আজকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, তোমাকে আবার নতুন করে প্রমাণ করতে হবে তুমি দেশের নাগরিক কি না! আমরা মনে করি এটা সব থেকে বড় লজ্জা! এটা সভ্যতার লজ্জা! এটা মানবিকতার লজ্জা। এটা গণতন্ত্রের লজ্জা!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *