সাগরপথে বিদেশ গমনে নষ্ট হচ্ছে দেশের সুনাম

সাগরপথে বিদেশ গমনে নষ্ট হচ্ছে দেশের সুনাম

অবৈধ অভিবাসন

সাগরপথে বিদেশ গমনে

নষ্ট হচ্ছে দেশের সুনাম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: সত্য সুন্দরভাবে যে কোনো কিছু অর্জনে মানুষের হৃদয়ের জোর থাকে। কোমরের জোর দিয়েই তখন বিশ^ জয় করতে পারে। কিন্তু এই অবৈধপন্থা অবলম্বন করে অভিবাসনের আশায় ঝুঁকি নেওয়াটা খুবই অন্যায়। ব্যক্তি যেমন পড়ছে চরম হতাশার মধ্যে তেমনি দেশেরও নষ্ট হচ্ছে সুনাম। কিন্তু এই অযাচিত পন্থা অবলম্বনের পেছনেও আছে এক শ্রেণির বাণিজ্য। মানুষ ঝুঁকিতে পড়লে কার কি আসে যায়। তাদের তো ব্যবসা হয়েই যায়।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ বলছেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের আশায় প্রতি বছরই নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি তরুণ। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া কিংবা ইউরোপে যাওয়ার জন্য নৌকাডুবিতে তাদের একাংশ প্রাণ হারাচ্ছে নতুবা গ্রেফতারের শিকার হচ্ছে। মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের সদস্যরা বিপুল অর্থ নিয়ে তাদের তুলে দিচ্ছে নৌকা বা ট্রলারে।

বিশেষ করে ইউরোপের উন্নত জীবনের হাতছানিতেই বেঘোরে জীবন হারাচ্ছে অনেকে। একসময় তুরস্ক থেকে গ্রিস হয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাড়ি দেওয়া ছিল অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। কিন্তু এখন সে পথ ব্যবহারের প্রয়াস গ্রেফতার নতুবা মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ১৫ বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় ৭১ জন তরুণের একটি দল সাগরপথে তুরস্কে যাওয়ার সময় লেকভ্যানে নৌযানটি ডুবে গেলে সাতজন মারা যান। ৬৪ জনকে আটক করে তুর্কি পুলিশ। তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক হয়ে ইউরোপ যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ফলে এ পথে অবৈধ অভিবাসন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যে কোনোভাবেই দালাল চক্রের কথায় প্রভাবিত হয়ে ইরান, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদি দেশ হয়ে তুরস্কে অনুপ্রবেশ করা মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া ও মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। লেকভ্যানের মর্মান্তিক ঘটনাই এর প্রমাণ।

স্পিডবোট দুর্ঘটনার পর যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আটক করে রেখেছে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইন অনুসারে শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তুরস্ক। শাস্তি শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো জানান, শুধু নৌপথে নয়, তুরস্ক হয়ে সড়কপথেও গ্রিসে প্রবেশের কোনো উপায় এখন আর নেই। সীমান্তে কঠোর নজরদারিতে চোখ এড়ানোর কোনো উপায় নেই দালাল চক্রের। গত ১০ জানুয়ারি প্রতিবেশী তুরস্ক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করে ১০ বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের একটি দল।

পুলিশের তাড়া খেয়ে মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনায় তাদের সবাই আহত হয়েছেন। অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা দেশের শত শত তরুণের জীবনের জন্য শুধু ঝুঁকি সৃষ্টি করছে না, দেশের সুনামও নষ্ট হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোয় ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *