মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মোনাজাত

মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মোনাজাত

মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মোনাজাত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: আমীন আমীন আমীন ধ্বনিতে মাওলানা সাদ কান্ধলবীর অনুসারীদের উপস্থিতিতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেছেন দিল্লি মারকাজের মুরব্বী মাওলানা জমশেদ। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বার বার মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় দুআ করেন। মহান আল্লাহর রহম, করমের সঙ্গে দাওয়াতি কাজ সবার মাধ্যমে গ্রহণের জন্য দুআ করেন।

তিনি দুআয় বলেন, উম্মত যেখানেই থাকুক তাকে শান্তি সমৃদ্ধি দিন। তাকে সুস্থ রাখুন। মানুষের মধ্যে শান্তির হাওয়া বয়ে দিন। ইয়া আল্লাহ হাম সবকে মাফ কর দে, ইয়া আল্লাহ হাম সবকে মাফ কর দে, ইয়া আল্লাহ হামারা খেদমাত কবূল কর দে, নামাজ খুশু খুজুকে সাথ পড়নেকি তাওফিক আতা ফরমাঁ।

দিল্লির মাওলানা জমশেদ দেশে বিদেশে প্রত্যেকটি মসজিদে তাবলীগের কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্যও দুআ করেন। তিনি বলেন, নবীজী যেভাবে দাওয়াতি কাজ করেছেন, সেভাবেই প্রতিটি মসজিদে আমাদের কাজ করার তাওফিক দিন।

বিশ্ব ইজতেমার জন্যও দুআ করেন। তিনি বলেন, সব মানুষের আগমনকে আপনি কবূল করুন। যতটুকু কাজ আমরা করেছি ততটুকুই কবূল করে নিন। যেভাবে এই দ্বীনের কাজে আমাদেরকে লাগিয়েছেন সেভাবেই দুআও কবূল করুন। আমাদের মেহনত করে নিন।

কার্যত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের পর্দা নেমেছে রোববার দুপুরে। অনুষ্ঠিত হয় আখেরী মোনাজাত। এ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার পরিসমাপ্তি ঘটে। সকাল থেকে হেদায়েতি বয়ান শুরু হয়েছে। হেদায়েতি বয়ান শেষ হলে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ মুরব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম।

দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত থেকেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিগণ ইজতেমা ময়দানের দিকে আসছেন স্রোতের মতো। সকালে মুসল্লিদের এই স্রোত আরও বাড়তে থাকে। ইজতেমা ময়দানের আশপাশে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ ও আব্দুল্লাহপুর- আশুলিয়া সড়কে মুসল্লিদের আসতে দেখা গেছে। মুসল্লিরা সবাই নিজের মতো করে এক ধরনের শৃঙ্খলা মেনে চলছেন।

মাঠজুড়ে বিশাল সামিয়ানার নিচে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অবস্থান করছেন ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী চিল্লাধারী সাথীরা। চিল্লাধারী সাথী ছাড়াও আশপাশ এলাকার মুসল্লিরা ময়দানের দিকে ছুটছেন। তবে প্রথম পর্বের তুলনায় এ পর্বের আখেরি মোনাজাতে মুসল্লির সমাগম কিছুটা কম হয় বলেও জানিয়েছেন টঙ্গীতে উপস্থিত তাবলীগের সাথীরা।

আখেরি মোনাজাতের দিন ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ১৬টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়া সব আন্তঃনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রা বিরতি করে। এছাড়া বিআরটিসি’র শতাধিক বিশেষ বাস সার্ভিস চালু থাকার কথা রয়েছে। মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *