ছোটবেলার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন আনোয়ার শাহ : আল্লামা মাসঊদ
‘ছোটবেলা সাইকেল চালিয়ে আমাকে ভয় দেখাতো আনোয়ার শাহ’
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: শহীদি মসজিদের খতীব ও জামিআ ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের প্রিন্সিপাল মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ রহ.কে নিজের ছোটবেলার অন্তরঙ্গ বন্ধু উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তু্ল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, আজহার আলী আনোয়া শাহ রহ. বেঁচে থাকতেও মাহমুদ ছিল মৃত্যুর পরও আশা করি প্রশংসনীয় অবস্থানেই থাকবেন। জান্নাতুল ফেরদাউসের প্রশংসনীয় জায়গায় তিনি থাকবেন। শেষ মুহূর্তে যখন আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে গেলাম। আমার ভাই রশিদের কৃতজ্ঞতা আদায় করছি, সাধারণত যে সময় ডাক্তার অনুমতি দেয় না দেখা করবার জন্য। মাওলানা রশিদ বিশেষ ইন্তেজামে আমাকে দেখার ব্যবস্থা করলেন।আমি দেখলাম, বিমোহিত হলাম।এরপর অল্প সময়ই তিনি বেঁচে ছিলেন। আল্লাহ তাআলার কাছে চলে গেলেন।
আপনারা জানেন, আনোয়ার শাহ দেখতে এত সুন্দর ছিল না, কিন্তু কণ্ঠ অনেক মধুর ছিল। তার নাক, চোখ, চেহারা অত্যন্ত সুদর্শন ছিল। আমি তন্ময় হয়ে তাকিয়েছিলাম তার দিকে। আমি জড়িয়ে ধরেছিলাম। নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি। ওখান থেকে বেরিয়ে ডাক্তারকে বল্লাম, কী আশা করতে পারি আমরা? ডাক্তার কেবল বললেন, দুআ করবেন হুজুর। এরপর থেকে ওই চেহারাটাই ভাসছে কেবল আমার। ইন্তেকালের পরও আমি ভুলতে পারছি না।
ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমরা ছোটবেলাটা একসঙ্গে পার করেছি। তার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক ছিল? তা বলে বুঝানো যাবে না। কত পথ, কত রাত, কত দিন একসঙ্গে ছিলাম। আনোয়ার শাহ সে যুগেও একটা সাইকেল চালাতো। আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্য সাইকেলে তুলতো। এদিকে সেদিকে নিয়ে যেত। একবার কী কাণ্ড ঘটালো, শুধু আমাদের মধ্যকার সম্পর্কটার কথা বলছি, কেউ অন্যভাবে নেবেন না। মাসআলা খুঁজবেন না। ছোটবেলা ঘটনা। একবার একটা ক্যামেরা জোগার করে আনলো। তখন ওটা খুব বিরল ছিল। মাসআলা বলছি না। আমাকে জোর করে বললো, একটা ছবি তুলতেই হবে। বন্ধুর সঙ্গে ছবি তোলার আবদার করলো।
আনোয়ার শাহ মাদানী মাসলাকের মতো টুপি পরতো বলে স্মৃতি রোমন্থন করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, স্বপ্নে আবার আমার সঙ্গে মোলাকাত করিয়ে দিলেন আল্লাহ তাআলা। আমি দেখলাম, খুবই ভালো অবস্থায় আছেন আনোয়ার শাহ।জামিআ ইমদাদিয়ার বোর্ডিংয়ের পেছনে আমাদের বাসা ছিল। তখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমার মতো লম্বা টুপি পরতো আনোয়ার শাহ। আকাশে গোধূলী রঙ। শাহ সাহেবকে সন্ধ্যায় বের হতে দেখে বল্লাম, এসময় বের হচ্ছেন? কোনো লোক দিয়ে দেবো? তিনি বল্লেন, দরকার নেই।
তখন আমার মন স্থির হলো। আল্লাহ তাকে শান্তিতে রেখেছেন। ভালো রেখেছেন।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, মাওলানা আনোয়ার শাহ রহ. এর চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয়, শোকের বিষয়, বাথা ও বেদনার বিষয়, হারানোর বিষয়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন।
শনিবার সন্ধ্যায় জামিআ ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় আল্লামা মাসঊদ এসব কথা বলেন।
এর আগে বেলা ৩টায় মাওলানা ইলিয়াস আমিনী প্রতিষ্ঠিত আল জামিয়াতুল আমিনিয়া কিশোরগঞ্জে হাদিসের দারস প্রদান করেন ঞ্জের প্রিন্সিপাল মাওলানা আজহার আলী আনোয়া শাহ রহ.কে নিজের ছোটবেলার অন্তরঙ্গ বন্ধু দাবি করে বাংলাদেশ জমিয়তু্ল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। এরপর সার্কিট হাউসে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বাদ আসর আল্লামা আজহার আলী আনোয়া শাহ রহ.-এর কবর জিয়ারত করতে যান তিনি। জিয়ারতের সময় সাঈদ নিজামীসহ অনেক আলেম উলামা উপস্থিত ছিলেন।




