নারীর অধিকার, ইসলামের আগে ও পরে

নারীর অধিকার, ইসলামের আগে ও পরে

নারীর অধিকার, ইসলামের আগে ও পরে

আব্দুল্লাহ আল আফিক :: আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর অর্থাৎ ইসলাম আসার পূর্বে নারীর কোনো স্বাধীনতা ছিল না।অধিকার ছিল না। ছিল না কোনো মর্যাদা। আইয়ামে জ্যাহিলিয়াতের যুগ বলা হত সে সময়টাকে। কন্যা সন্তান বা নারীর জন্ম ছিল অভিশাপ আর অপমানের বিষয়। এমনকি কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতে রাখা হত।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তানকে জিঙ্গেস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? (সূরা তাকভির : আয়াত ৮-৯)

নারীদেরকে জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতনের স্টিম রুলার চালান হত। জুলুম, নির্যাতন ছিল তাদের সঙ্গের সাথী। তারা ছিল পুরুষদের ভোগের পাত্রই মাত্র।

এটাই ছিল ইসলাম আসার পূর্বে নারীর অবস্থা। যখন ইসলাম আগমন করল, তখন ইসলামই নারীকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করে। তাদের সম্মান তাদের আত্মমর্যাদাবোধ তাদের ফিরিয়ে দিল। ইসলাম নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ তাদের যাবতীয় জুলুম নির্যাতন প্রতিহত করল। তাদের প্রতি পুরুষের কতব্যগুলো পালন করতে বাধ্য করল।

ইসলাম নারীকে কন্যার মর্যাদা দিয়েছে, মায়ের মর্যাদা দিয়েছে, স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে। কেবলমাত্র ইসলামই নারীকে মর্যাদার উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তবুও কিছু সুশীল ব্যক্তিবর্গ ইসলামে নারীর অধিকার, মর্যাদা, স্বাধীনতার ব্যাপরে প্রশ্ন উত্থাপিত করে।আজ আমাদের সমাজের কিছু মানুষ নারীর অধিকারের নামে নারীকে বাজারের পণ্য বানাচ্ছে। এটা নিশ্চয়ই ঘৃণার কাজ। এ থেকে আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, যে মুমিন অবস্হায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী। আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবংতারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিব। (সূরা আন নাহল : আয়াত ৯৭)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, আল্লাহ তায়ালা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন।যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা।( সূরা আত তাওবা : আয়াত ৭২)

জামিয়াতুস সুন্নাহ, ঝিনাইদহ থেকে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *