মুক্তিযুদ্ধে মা ছিলেন বাবার ছায়াসঙ্গী : প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধে মা ছিলেন বাবার ছায়াসঙ্গী : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ● বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্য দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছার পরামর্শ নিতেন। মানুষের অধিকার রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রামের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা। তার পরামর্শেই বঙ্গবন্ধু দলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই স্মরণসভায় মায়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। আমার মা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আব্বাকে সাহায্য করেছেন উল্লেখ করে শেক হাসিনা বলেন, ৬ দফা দেয়ার পর আব্বা একেকটা জেলায় যেতেন, বক্তৃতা দিতেন। আরেক জেলায় গেলে গ্রেপ্তার করা হতো। মুক্তি পেয়ে আরেক জেলায় গিয়ে বক্তৃতা দিতেন। আরেক জেলায় গেলে গ্রেপ্তার করা হতো। এভাবে কতবার যে আব্বাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬৬-সালে আব্বাকে গ্রেপ্তার করার পর ৭ জুন হরতাল ডাকা হয়। সেই হরতালকে সফল করতে সকল কাজ করেছিলেন আমার মা।

তিনি বলেন, ৬ দফার পর যিনিই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতেন তাকেই গ্রেপ্তার করা হতো। তখন আমার মায়ের পরামর্শে মহিলা সম্পাদিকা আমেনা বেগমকে সেক্রেটারি করা হলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘাতকের দল যেভাবে তার মায়ের ওপর গুলি চালিয়েছে, সেটা কখনও ভাবতে পারেননি। ঘাতকের দল জানতো এদেশের স্বাধীনতার পেছনে মায়ের অবদান। মা সারাজীবন কষ্ট করে গেলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্বা মায়ের মতো একজন সাথী পেয়েছিলেন বলেই তিনি তার জীবনে সংগ্রামের সফলতা পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন ও সংগ্রামে নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী হিসেবে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমরা যে স্বাধীন দেশ পেয়েছি তাতে জনমত সৃষ্টি করতে আমার মায়ের ভূমিকা অপরিসীম।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের সময় অনেক কাগজপত্র, অনেক পয়েন্ট, অনেক পরামর্শ, আমাদের বাসায় কাগজে-কাগজে ভর্তি। যে কোনও একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আমার মা কিছু সময়ের জন্য আব্বাকে আলাদা করে নিয়ে যেতেন। ওই সময় আম্মা আব্বাকে নিয়ে এসে বললেন, তোমার সামনে লক্ষ লক্ষ মানুষের হাতে বাঁশের লাঠি। তোমার পেছনে পাকিস্তানিদের বন্দুক। অনেকে অনেক পরামর্শ দেবে, তোমার মনে যা আসবে তুমি তাই বলবে। তিনি বলেন, আব্বা কী চান, সেটা আমার মা বুঝতেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়ার আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনী আমার মাকে অনেকবার ইন্টারোগেশন করেছে। কোনোভাবে তাকে মামলায় জড়ানো যায় কিনা। কিন্তু আমার মা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবেলা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্বাকে কোনোদিন সংসারের বিষয় নিয়ে মা বিরক্ত করতেন না। শুধু সংসার নয়, সংগঠনের বিষয়গুলো আমার মা দেখতেন। ছাত্রলীগ সরাসরি মা দেখতেন।

আমাদের তো সারাটা জীবন ধাক্কা খেয়ে খেয়ে চলতে হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাত্রিতে স্বামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ ও আত্মীয়-স্বজনসহ দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে তিনি শাহাদতবরণ করেন।

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *