যতই লডডাউন থাকুক, হাদিস চর্চা বন্ধ হতে পারে না : আল্লামা মাসঊদ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বৈশ্বিক মাহামারি করোনাভাইরাসের এই সময়ে যতই লডডাউন থাকুক, হাদিস চর্চা বন্ধ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার অনেক অনেক শুকরিয়া। করোনার এই পরিস্থিতিতেও আমরা ‘কালা কালা’ বলতে পারছি। আলাহমুদুলিল্লাহ।
অনলাইনে বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর খিঁলগাও, চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত জামিআ ইকরা বাংলাদেশর ১৪৪১-৪২ হিজরী শিক্ষাবর্ষের ইফতাহি দারসে এসব কথা বলেন মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর এই খলীফা।
যেখানে যেভাবে তুমি থাকো ইলমে ওয়াহী তোমার লাগবেই জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ যেমন বাতাস ছাড়া থাকতে পারে না, চলতে পারে না, সব অবস্থায় বাতাসের যেমন প্রয়োজন সেভাবেই ইলমে ওয়াহীরও প্রয়োজন। তুমি যেখানেই থাকো, আকাশে থাকো আর মাটিতে থাকো, পাহাড়ে থাকো আর সাগরে থাকো, ইলমে ওয়াহী তোমার লাগবেই। ইলম ছাড়া চলা অসম্ভব নয়।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, করোনার এই সময়ে মানসিকভাবে আমরা সম্পর্কহীন হয়ে পড়ছি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন আল্লাহর কাছ থেকে কিতাব আনতে গেলেন, তখন বনী ইসরাইল সামেরির পূজা শুরু করে দিলো। ‘লা মিসাস, লা মিসাস’ অর্থাৎ স্পর্শ করো না স্পর্শ করো না, এমন এক আজাব দিয়েছিলেন আল্লাহ তাআলা সামেরিকে। এখন আমরাও ‘কাছে এসো না-কাছে এসো না’ আজাবের মধ্যে আছি। সুতরাং আজাবে-গজবে সবসময় আল্লাহর কাছেই আমাদের ফিরতে হবে।
তিনি বলেন, ইলমের চর্চা কখনো বন্ধ হতে পারে না। শেকেল বা রূপ পরিবর্তন হতে পারে না। নামাজ যেমন কখনো বন্ধ করা যায় না। দাঁড়িয়ে না পারলে বসে, বসে না পারলে শুয়ে নামাজ পড়তেই হয়। তাই পরাস্থিতি যেমন হোক না কেন ইলম ওয়াহীর চর্চাও আমাদের করে যেতে হবে। আর যেখানে ইলমের চর্চা হয়, হাদিসের চর্চা হয়, সেখানে বৃষ্টির মতো আল্লাহর রহমত বর্ষণ হতে থাকে।
‘বিজ্ঞান ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। যদি আমরা বিজ্ঞানকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি। বিজ্ঞানের দুটি দিক আছে। বিজ্ঞান সত্যে পৌঁছুতে না পারলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সত্যে পৌঁছুতে পারলে বিভ্রান্তি লোপ পায়, ইসলামের সঙ্গে মিলে যায়। আর ওয়াহীর সূচনা সত্য থেকে। আল্লাহ থেকে। আল্লাহর কিতাব কুরআন যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বিজ্ঞান হলো অভিজ্ঞতার আলোকে চলে। গৃক বিজ্ঞানীদের থেকে এখন বিজ্ঞান অনেক উন্নত। যত দিন যাচ্ছে তত উন্নত হচ্ছে। প্রায়োগিক দিক থেকে বিজ্ঞানের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ নয়।’- বলেন জামিআ ইকরা বাংলাদেশে শায়েখ।
অনলাইনে ইফতাহি দারসের শুরুতে পবিত্র কালামুল্লাহ থেকে তেলাওয়াত করেছেন হাফেজ মুয়াজ বিন মারুফ, হামদ পরিবেশন করে জামিআ ইকরা শিক্ষার্থী আল আমীন শাহ এবং দাওরায়ে হাদীসের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইসমাঈল বুখারী শরীফের প্রথম হাদীস পাঠ করেন।
জামিআ ইকরা বাংলেদেশ সিনিয়র মুহাদ্দিস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইনুল বান্নার উপস্থাপনায় হেদায়াতি বয়ান পেশ করেন জামিআ ইকরার রঈস ও কাকরাইল সার্কিট হাউজ মসজিদের খতীব মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ।
তিনি বলেন, আমরা কখনোই হাল দ্বারা প্রভাবিত হবো না। কারণ হাল সবসময় পরিবর্তনশীল। সারবিশ্বে এখন করোনাভাইরাস মহামারি রূপ ধারণ করেছে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ আছে। তাই করোনার এই সময়ে আমরা নিয়মিত অনলাইনেই দারস করবো। করোনা চলে গেলে ইনশাআল্লাহ আমরা আবারও স্বাভাবিক হবো। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দিন।
জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী বলেন, অনলাইনের এই দারসকে আমরা অবহেলার চোখে দেখবো না। অনলাইন ব্যবস্থাপনার এই সুযোগকে শুকরিয়ার মাধ্যমে গনিমত মনে করতে হবে। আগ্রহ ও আদবের সঙ্গে অনলাইনে দারস করতে হবে। সবধরনের চিন্তাকে পরিহার করে আমরা দারসে বসবো। হাদীসের মর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করবো।
জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান শিক্ষার্থীদের আদবের সঙ্গে দারসে বসার নির্দেশনা পেশ করেন।
জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি অনেক খুশি যে, লডডাউন সত্ত্বেও আমরা হাদিসের দারস শুরু করতে সক্ষম হয়েছি।
এদিকে অনলাইন মাধ্যমে জামিআ ইকরার ইফতাহি দারসের ব্যবস্থাপনা ও আয়োজন করায় পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের সহকারী সম্পাদক মাওলানা যারওয়াতুদ্দীন সামনুনকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র শিক্ষক ও প্রশাসনিক মুহতামিম মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।
– এই লিঙ্কে দেখতে পাবেন জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ইফতাহি দারস
https://www.facebook.com/iqra.multimedia.31/videos/584768362176326/?epa=SEARCH_BOX


