পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের বৃহৎ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ দুর্নীতিমূলক নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফসহ তিনজনকে বোর্ড থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির সহসভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে বেফাকের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে বেফাক মহাসচিবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেঢা না হলেও তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বৈঠকে।
এছাড়া বৈঠকে ফোনালাপে বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা ত্বহার নামও ওঠে এসেছে। নানা অনিয়ম ও বেফাকের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
পরীক্ষা বিভাগের সঙ্গে কর্মরত ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণীকেও এ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেফাকের সকল কর্মকাণ্ড থেকে বরখাস্ত করা হয়।
বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্লবার (১৪ জুলাই) বেফাকের এ বৈঠকে খাস কমিটির সদস্যদের মধ্যে থেকে উপস্থিত ছিলেন বেফাকের সহসভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা আবদুল হক ময়মনসিংহ, মাওলানা আবদুল হামিদ মধুপুর পীর সাহেব, মাওলানা সাজিদুর রহমান দারুল আরকাম মাদরাসা, মাওলানা ছফিউল্লাহ পীরজঙ্গী মাদরাসা, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া। মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ও মাওলানা নুরুল আমিন এবং অর্থ সম্পাদক মাওলানা মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, কিছু ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে বেফাক নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেধা তালিকা নিয়ে সিরিয়াল জালিয়াতি, পরীক্ষার মারকাজ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, স্বজন-প্রীতি, মুরব্বি আলেমদের নামে তুচ্ছ-তাচ্ছি্যে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তিনি বরখাস্ত হতে পারেন এমনটা আগেই জানা গিয়েছিল।
সাম্প্রতিক বেফাক নেতৃবৃন্দের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর মাওলানা আবু ইউসুফের অনিয়মের খবর আসতে থাকে চারিদিক থেকে। চাপের মুখে পড়ে তিনি বেফাক মহাপরিচালকের কাছে অনির্দিষ্টকালের ছুটিও চেয়েছিলেন। তবে মহাপরিচালক তা মঞ্জুর করেননি।
মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে অনেক আগ থেকেই একটি সাব কমিটি তদন্ত করছে। অবশ্য বেফাকের সব অনিয়মের বিরুদ্ধেই কাজ করছে ১০ সদস্যের এই কমিটি। তদন্ত কমিটিতে আছেন-মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নুরুল আমিন, মাওলানা মনিরুজ্জামান।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এসব ফোনালাপসহ এ পর্যন্ত বেফাকে হওয়া সব অনিয়মের বিচার দাবি করেছেন কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, শুধু আবু ইউসুফ কিংবা তার সহযোগীরা নয়, মহাসচিবসহ যারাই এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার করতে হবে।
/এএ


