শেখ নাঈমুল ইসলাম : বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজেদের ধারণাই বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুর্কী উলামায়ে কেরামের প্রতিনিধিদল। তারা বলেন, আমরা এই বাংলাদেশের গল্প জানি না। আমাদের কাছে খুব খারাপভাবে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা বিশ্বময় যেভাবে আলোচিত হয় তা আমাদেরকেও মুগ্ধ করে। আমরা নতুন বাংলাদেশের গল্প শুনেই ছুটে এসেছি।
রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্ক ওলামাদের প্রতিনিধিগণ। ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আল্লামা মাসঊদের বারিধারার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে এলে তুর্কি ওলামাদের একটি প্রতিনিধিদল বলেন, বাংলাদেশকে আমাদের কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়, এখানে ইসলামপ্রিয় মানুষের ধর্মীয় অধিকার নেই। বড় বড় আলেম উলামাকে হত্যা ও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এমন নানা অভিযোগ আমাদের কাছে করা হয় কিন্তু এখানে এসে আমরা দেখলাম প্রচুর মসজিদ, মাদরাসা। মানুষের ধর্ম পালনে কোন বাধা নেই এবং ওলামায়ে কেরামেরও ইসলাম প্রচার ও প্রসারে কোন বাধা নেই।
তুরস্ক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন শায়খ আহমাদ ইবরাহিম, শায়খ মুহাম্মাদ আশুরেন, শায়খ মুহাম্মদ তুরান, শায়খ মুহাম্মদ ইমরান প্রমুখ।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা বলেন, এই প্রোপাগান্ডা এ দেশের একদল লোক যাদের মূলধারার ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই- তারাই ছড়াচ্ছে। মূলত তারা এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা ইসলামের নামে এ দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। বর্তমান সরকারের সময় তাদের সেই অপরাধের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ সময় জমিয়তের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক আলেমের স্বাক্ষরসম্বলিত জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এই ফতোয়া জাতিসংঘ ও ওআইসির কাছে অর্পণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তা অনূদিত হওয়া ও সমাদৃত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তুর্কি ওলামায়ে কেরাম বলেন, রোহিঙ্গা অভিবাসীদের স্থান দেয়ায় সারা বিশ্বের সামনে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বাংলাদেশ। এদের উপর নির্যাতন বন্ধে এবং নিজ দেশে অবশ্যই ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে ।
এদের প্রতি মানবীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে তুর্কি ওলামায়ে কেরামের সম্পর্কের এক নতুন দ্বার উম্মোচিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।


