মূল্যায়ন । আমিনুল ইসলাম কাসেমী
যাদুর মতো টানে যার সাবলীল কথামালা
জীবনে অনেক বক্তৃতা শুনেছি কিন্তু আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের মত এরকম যাদুকরী বক্তৃতা আর শুনিনি। ওয়াজ- নসীহত শুনেছি অনেক, আজো ফরীদ সাহেবের মত ভাষার অলংকার দিয়ে সাজানো ওয়াজ- নসীহত আমি শুনিনি কোনদিন। বহু সেমিনার- সেম্পুজিয়ামে গিয়েছি, তবে আজো তাঁর মত গোছালো চমতকার উপস্থাপনা কারো থেকে শুনিনি।
হাদীসে আছে, ” ইন্না মিনাল বয়ানে লা ছিহরা” কিছু বয়ান আছে যাদুর মত। যাদু যেমন মানুষকে হতভম্ব করে দেয়। তদ্রূপ কিছু বয়ান- বক্তৃতা মানুষকে মোহিত করে। হতভম্ব বানিয়ে দেয়। আমার দেখা, আমার সরাসরি শোনা আল্লামা মাসঊদ সাহেবের বয়ানসমগ্র ঠিক যাদুকরি প্রভাব ফেলে। স্রোতাদের ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়। তাঁর কথা, বাচনভঙ্গি,উপস্থাপনা, ভাষার সৌন্দর্য, তথ্য সমগ্র সবকিছুতে বিরল এক ছাপ। এযেন এক বিস্ময়কর বয়ান- বক্তৃতা। স্রোতারা যারাই শোনে, তারা তৃপ্তি অনুভব করে। যে তৃপ্তি অন্য কোন বক্তার থেকে পাওয়া যায় না।
একজন তুখোড় বাগ্মি বলা যায়। কিন্তু নিজেকে গোপন করে রাখেন। কথার যাদু দ্বারা মানুষকে কাছে টেনে নিতে পারেন। তথ্য নির্ভর এবং যুক্তিযুক্ত বক্তব্যে স্রোতাদের মন ভরিয়ে দেয়। বহু জায়গায় তাঁর আলোচনা শুনেছি, মানুষ যেন তাক লেগে যায়। অনেক বিরোধিতাকারীরা তাঁর বয়ানে মুগ্ধ হয়ে ভুল ভেঙে যায়। দূর থেকে আল্লামা মাসঊদের বিরুদ্ধবাদীরা না বুঝে অনেক দুশমনি করে থাকে। কিন্তু কাছে এসে তাঁর কথা শুনলে সে আর বিরোধিতা করতে পারে না। তাঁর দর্শন, তাঁর চিন্তা- চেতনা বিষয়গুলো যখন তাঁরই মুখ থেকে শ্রবণ করে, তখন তার ভুল বুঝতে পারে।
সুরেলা বক্তা তিনি নন। আবার উত্তেজনা ছড়ানো আলোচনা নয়। উস্কানীমূলক কোন বক্তব্য নয়। সাবলীল ভাষায় তাঁর আলোচনা। মিষ্টি কথা। হেকমতপূর্ণ আলোচনা। তাঁর বক্তব্যগুলো, তাঁর দাওয়াতী মিশন অবিকল কোরআনুল কারীমে বর্ণিত দাওয়াত ও তবলীগের হেকমতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী।
যেমন কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে, ” উদয়ু ইলা সাবিলি রাব্বিকা বিল হিকমাতী ওয়াল মাওয়েজাতিল হাসানা”
অর্থাৎ মানুষকে আহবান কর আল্লাহর দিকে হেকমত এবং মাওয়ায়েজে হাসানা (মিষ্টিকথা) দ্বারা।
তদ্রুপ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের আলোচনাগুলো হেকমতপুর্ণ এবং মিষ্টিকথা মিশ্রিত। কোন কর্কশ,অশ্লীল, অহেতুক বাক্যালাপ নয়। কোন উত্তেজনা সৃষ্টি করা নয়।একজন দায়ীর যে সিফাতগুলো থাকা প্রয়োজন,সবই তাঁর মধ্যে সন্নিবিশিত হয়েছে।
তিনি যেমন জ্ঞানী। জ্ঞানসমুদ্রে তাঁর বিচরণ। জীবন্তগ্রন্হাগার বলা যায় তাঁকে। লাইব্রেরীর পর লাইব্রেরী কিতাব যিনি মুতালায়া করেছেন। তবুও যেন তিনি পিপাসিত। তাঁর পিপাসার যেন বিরাম নেই। তাঁর অধ্যাবসায়টা বিরামহীন। এখনো তিনি গভীর মুতালায়ায় ডুবে থাকেন।
এমন একজন উচ্চাঙ্গের ব্যক্তিত্বের বক্তৃতামালা তুলনাহীন। যার কথায় তো শুধু মুক্তা ঝরে। পিপাসিত স্রোতার হৃদয় সিক্ত করে দেয়। মিটে যায় অন্তরজ্বালা। স্রোতার অন্তরে প্রশান্তিতে ভরে যায়। অনন্য তৃপ্তি আস্বাদন করে। মুছে যায় সব গ্লানি। ব্যাথা- বেদনা ভুলে মহব্বত- ভালবাসার অবগাহন তৈরী হয়।
তাঁর অনন্য বর্ণনা শৈলী। ভাষার মাধুর্যে স্রোতার অন্তরে আঘাত করে। পরিবর্তন ঘটায়। যেন এক নুরানী আভা লেগে যায়। কুরআন- হাদীসের হৃদয়ছোঁয়া আলোচনায় উপস্থিত স্রোতার অন্তর বিগলিত করে। অসাধারণ তৃপ্তি অনুভব করে স্রোতার অন্তরে। বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যারা তাঁর বক্তৃতাগুলো শুনে থাকে, তারাই ভাল বলতে পারবেন।
ফেরাকে বাতেলা সম্পর্কে তাঁর প্রচুর ধারণা। এমন কোন ফের্কা নেই, যার সম্পর্কে তিনি জানেন না। এমন কোন মতবাদ নেই, যাদের আদ্যপান্ত তিনি খোঁজ- খবর নেন নি। প্রতিটি ফেরাকে বাতেলার আগাগোড়ার খবর পাওয়া যায় তাঁর কাছে। তাদের তথ্য, তাদের ভ্রান্ত আকিদা, চিন্তা- চেতনা সব কিছু তিনি ওয়াকিফহাল। তাদের গোমরাহীর বিষয়গুলো তিনি রপ্ত করে রেখেছেন। আর সেই সাথে ওসব বাতিল ফেরকার জওয়াবগুলো তাঁর কাছে রয়েছে। সব অকাট্য দলিল সম্ভার। যে কোন বাতিল ফের্কা তাঁর কাছে লা – জওয়াব হয়ে যাবে। কোন মতবাদ টিকবে না। হক- হক্কানিয়্যাতের নিশান তিনি উড়াবেন।
ফেরাকে বাতেলাদের সম্পর্কে তাঁর আলোচনা আরো চমৎকার। এমন এমন তথ্য খুঁটে খুঁটে বের করে তিনি বর্ণনা করেন, যেটা অনেকেরই অজানা। অনেক বড় ব্যক্তিত্বের জানা নেই। অথচ ওসব বাতিল ফেরকাগুলো সমাজে গোমরাহী ছড়াচ্ছে। মানুষকে গোমরাহ বানাচ্ছে। সচেতন আলেম হওয়ার পরেও অনেক বিষয়ে তারা অজ্ঞ রয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী একজন মনীষী তিনি। সব সাবজেক্টে তাঁর সীমাহীন পাণ্ডিত্ব। বক্তৃতার মাঝে সব তুলে ধরতে পারেন।
যেমন তিনি খ্যাতিমান লেখক। যার লিখনীর খ্যাতি বিশ্বব্যাপি। তাঁর লিখিত বই বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপি পাঠকদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছে। এমনকি পৃথিবী বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর লিখিত বই পাঠ্যসূ্চির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অগণিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। বহু বড় বড় আরবী – উর্দু কিতাব অনুবাদ করেছেন। জালালাইন শরীফের মত বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তিনি মাত্র একচল্লিশ দিনে অনুবাদ করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের উপর দু হাজার পৃষ্ঠার এক গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেটার আলোচনা এখন দেশজুড়ে চলছে। দীর্ঘ নয় বছর তিনি সময় নিয়েছেন গ্রন্থটি লেখার জন্য। অনেক অধ্যাবসায়ের পর তিনি অনবদ্য সীরাতগ্রন্থ দাঁড় করেছেন। এক বড় সাধনা তাঁর।
বয়ান – বক্তৃতায় তাঁর যাদুর ছোঁয়া। কথায় তাঁর পাণ্ডিত্ব ফুটে ওঠে। সাধারণ কোন মানুষের মত নয়। জ্ঞান-গর্ভ আলোচনায় মজলিসগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মজলিসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। কি এক অসাধারণ শক্তি তাঁর। যে শক্তিটা রুহানী শক্তি বলে মনে হয়।
কেননা, এমন ব্যক্তির সোহবতে তিনি ছিলেন, এমন ব্যক্তির দুআ এবং ইজাজতপ্রাপ্ত। যার সংস্পর্শে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। সেই ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহঃ এর রুহানী তাওয়াজ্জুহ প্রাপ্ত। যার কারণে তাঁর লিখনীতে ক্ষুরধার এবং বক্তৃতায় যাদুর ছোঁয়া। আবার এমন উস্তাদের কাছে থেকে তিনি সবক রপ্ত করেছেন, যার সম্পর্ক ছিল কুতুবুল আলম, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সংগ্রামী সিপাহসালার সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.এর সাথে। এসব নেছবাতে তিনি যেন আরো উচ্চ আসনে। তাঁর কলম এবং কথায় ধারাল হয়েছে সাংঘাতিক।
ছাত্রদের তরবিয়্যাতী প্রোগ্রামে ফরীদ সাহেবের বয়ান
আল্লামা মাসঊদ সাহেবের যতগুলো তরবিয়াতী প্রোগ্রামে ছাত্র জীবনে হাজির হয়েছি, সবই মনে রাখার মত। কোনটা থেকে কোনটা কম নয়। চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসার তরবিয়াতী জলসা, বারিধারা মাদ্রাসার তরবিয়াতী জলসা, লাজনাতুত তালাবার তরবিয়াতী জলসা, সবই ব্যতিক্রমধর্মী । ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তাঁর কথাগুলো যেন মধুময়। অত্যন্ত দরদমাখা কণ্ঠে যেন তিনি বয়ান দিতেন। বিশেষ করে ফেরাকে বাতেলার ব্যাপারে দলিলভিত্তিক আলোচনাগুলো শোনার মত। ছাত্রদের জেহেন তৈরী হত তাঁর কথায়।
সেই নব্বই দশকে লাজনাতুত তালাবার প্রোগ্রামে অত্যন্ত ধীর- স্থিরভাবে কথাগুলো বলতেন। ছাত্রদের যেন পিপাসা মিটে যেত। ছাত্রদের এমন কোন বিষয় ছিল না তিনি বয়ান করেন নি। লেখাপড়া থেকে জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে কিভাবে চলা চাই, তার রূপ রেখা বর্ণনা করেছেন। কোন ছাত্র কিভাবে লেখাপড়া করবে, কি হবে তার চিন্তা- চেতনা, ছাত্রদের পারিবারিক, সামাজিক, ভবিষ্যতে সে কিভাবে চলাফেরা করবে, সবকিছু তিনি তুলে ধরেছেন। এমনকি একটা ছাত্র বই পড়বে কিভাবে? তার তরিকা কী? সবকিছুকে তিনি উপস্থাপন করেছেন।
আন্তর্জাতিক ইসলামী কনফারেন্সে আল্লামা মাসউদ এর বক্তৃতা
দিল্লিতে ইসলামী বিশ্বের স্কলারগণের উপস্হিতিতে এক বিশাল সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে আল্লামা মাসউদ ছিলেন সন্মেলনের মধ্যমণি। বিশাল মঞ্চে ছিল এক কুরসি। যেটাতে তিনি অলংকৃত করেছিলেন। সে সন্মেলনে তাঁর বক্তৃতা ছিল যুগান্তকরী এবং যাদুময়ী। জমিয়েতে উলামায়ে হিন্দের মহামান্য সেক্রেটারী আল্লামা মাহমুদ মাদানী সাহেব এর পরিচালনায় আল্লামা মাসউদ সাহেবের বক্তৃতা নজর কেড়েছিল।
দারুল উলুম দেওবন্দের শতবার্ষিকীতে আল্লামা মাসউদ সাহেবের বক্তব্য
দারুল উলুম দেওবন্দ, ইউপি, ভারত। এটা আমাদের মাদারে ইলমী। ভারতবর্ষের কওমী মাদ্রাসার গোড়া। এটাতে যখন শতবর্ষের অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়, সেখানে উপস্হিত ছিলেন, লক্ষ লক্ষ উলামায়ে কেরাম। ভারত,বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, বার্মা, শ্রীলংকা সহ বিশ্বের সব মুসলিম দেশ থেকে হাজার হাজার ওলামায়ে কেরাম উপস্হিত হয়েছিলেন। পাকিস্তান থেকে সেবার ট্রেন ভরে ভরে সরাসরি আলেমগণ সন্মেলনে যোগদান করেছিলেন। বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্হিতি ছিল সেখানে।
দারুল উলুমের সেই শতবার্ষিকী সন্মেলনে বাংলাদেশী আলেমদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেছিলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব। যেটা একটা ইতিহাস। স্মরনীয় হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে বক্তৃতা দেওয়া শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে, এটা বড় সৌভাগ্যের। সেই সাথে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং ইলমী মাকাম কত উর্ধের, সেটা বুঝে আসে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সেমিনারে আল্লামা মাসউদ
বিশ্বের বহু কান্ট্রিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা, প্রায় সব মহাদেশে তাঁর পদচারণা। বিভিন্ন দেশে তিনি সেমিনারে যোগদান করেন এবং বক্তৃতা করেন। পাকিস্তান থেকে আল্লামা তকী উসমানী এবং বাংলাদেশ থেকে আল্লামা মাসঊদ সাহেব, বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী স্কলারদের মাঝে বক্তৃতা করে থাকেন। এবং তাঁর বক্তৃতা এবং বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণা সকলকে হতবাক করে দিয়েছে।
বঙ্গভবনে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের বক্তৃতা
কওমী সনদের স্বীকৃতি যেদিন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেদিন দেশসেরা তিনশত আলেমকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল বঙ্গভবনে। প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে বিভিন্ন ওলামায়ে কেরাম বক্তৃতা করছিলেন। সবাই কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করে যাচ্ছিল। এর বাইরে কেউ কোন বক্তৃতা করেনি। এক পর্যায়ে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব যখন বক্তৃতা করেন, তখন তিনি চমক লাগিয়ে দিলেন। তিনি উঠেই বক্তৃতাতে বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমী সনদের স্বীকৃতির জন্য ধন্যবাদ, পাশাপাশি তিনি আলেমদের উপর যে হেফাজতের আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা ঝুলে রয়েছে, সেগুলো তুলে নিয়ে আলেমদের নিষ্কৃতির কথা উচ্চারণ করলেন। অথচ সেখানে আরো হেফাজতের আন্দোলনকারী বহু নেতা ছিলেন, যাদের থেকে এরকম সাহসী বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আল্লামা মাসঊদ সাহেবের সে বক্তৃতাকে সকলেই স্বাগত জানিয়েছিল। দেশের সর্বস্তরের আলেম- উলামার ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গিয়েছিল।
শোকরানা মাহফিলে আল্লামা মাসঊদের বক্তৃতা
কওমী সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হয়। যেটা ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় লাখো আলেমের সমাবেশ। সেখানে ফরীদ সাহেব যে বক্তৃতা করছিলেন, তা স্মরণ থাকবে চিরদিন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী করেন, আল্লামা আহমাদ শফি সাহেব এদেশের লক্ষ -কোটি জনতার প্রাণের স্পন্দন। বাংলাদেশের লাখো আলেমের ছারেতাজ। এই মহান ব্যক্তিকে তাঁর অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক দেওয়া হোক। একজন প্রবীণ আলেম হিসাবে তিনি এপদকের যোগ্য।
আল্লামা মাসউদ সাহবের এ প্রস্তাবে সন্মেলনের লাখো আলেমের কন্ঠে বেজে ওঠেছিল আনন্দের ধ্বনি। সমস্বের সাপোর্ট করেছিল সবাই। একবাক্যে সাধুবাদ জানিয়েছিল সকলেই।
একজন ধী- শক্তির অধিকারী আল্লামা মাসঊদ সাহেব। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি তুখোড় মেধাবী। তাঁর লিখনীর পাশাপাশি বক্তৃতাগুলো স্রোতাদের হৃদয় কেড়ে নেয়। স্থান- কাল পাত্রভেদ হিসেবে তিনি যখন তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন, স্রোতাদের অভিভূত করে দেয়। তথ্য এবং যুক্তিনির্ভর কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায় সকলের। লিখনী আর বক্তৃতা কোনটাতেই যেন তিনি কম নন। যদিও বক্তৃতার কথাটা কেউ উচ্চারণ করে না। কিন্তু সব বিষয়ে তাঁর যে পাণ্ডিত্ব এটা কজনের জানা।
পুরোপুরি তিনি স্বীয় উস্তাদ কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহ এবং তাঁর উস্তাদ সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ এর যোগ্য উক্তরসূরী। উস্তাদ এবং দাদা উস্তাদদের মত চতুর্মুখী যোগ্যতা সম্পন্ন। এখানে তো সামন্য কিছু বিষয় তুলে ধরা হল, তিনিতো সর্ব লাইনে মাহের (অভিজ্ঞ)। দক্ষতা এবং জ্ঞান-গরিমা ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। ইলমে হাদীসের ময়দান থেকে নিয়ে সকল বিষয়ে তিনি অনন্য -অতুলনীয়। আল্লাহ তায়ালা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবকে নেক হায়াত দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


