পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশে দেখা দেয় গেল মার্চে। সেই সময় থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত গড়ে দেশে পরিবার বা খানা প্রতি মাসিক আয় কমেছে আনুমানিক ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে এ সময়ে গড় ব্যয় কমেছে মাত্র ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশে করোনা মহামারীকালে আয় কমলেও সে তুলনায় ব্যয় তেমন কমেনি। করোনাকালে ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ পরিবারই সরকারি সহায়তার বাইরে রয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সেপ্টেম্বর মাসের ‘জীবিকা সম্পর্কিত অভিমত জরিপ ২০২০’ প্রকাশ করে। সেই জরিপে এ তথ্য জানা যায়।
জরিপ থেকে আরো জানা গেছে, করোনা মহামারীকালে আনুমানিক ৫২ দশমিক ৫৮ শতাংশ পরিবার বা খানা গেল মার্চ মাসের তুলনায় কোন না কোনভাবে তাদের খাদ্যদ্রব্য ভোগের পরিমাণ কমিয়েছে। এদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার বা খানা মাসিক আয় কমার কারণে খাদ্যদ্রব্য ভোগের পরিমাণ কমিয়েছে।
এ জরিপের তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণে মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয় প্রতীয়মান হয় যে, শতকরা প্রায় ৬৮ দশমিক ৩৯ ভাগ পরিবার বা খানা কোন না কোন ভাবে কভিড-১৯ এর অভিঘাতে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষকরে রিকশা-ভ্যান চালক ও দিনমজুরগণ অধিক মাত্রায় আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন।
জরিপের তথ্য-উপাত্ত হতে পরিলক্ষিত হয় যে, করোনা মহামারীকালে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরিবার বা খানা সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ প্রায় ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ পরিবারই সরকারি সহায়তার বাইরে রয়েছে।
আর সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ গ্রহণকারী এ খানা বা পরিবারগুলোর ৯৪ দশমিক ৪৪ শতাংশের গত আগস্ট মাস এবং ৮২ দশমিক ৬৪ শতাংশের গেল মার্চ মাসে গড় আয় ছিল ২০ হাজার টাকা বা তার কম। অর্থাৎ এ থেকে এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের পরিবার বা খানাগুলো পেয়েছে।
/এএ


