পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহ তাআলা অপেক্ষায় থাকেন, বান্দা কখন মাফ চাইবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তাআলা বড় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু, তিনি তার বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য অপেক্ষায় থাকেন, কখনো বান্দা বলবে, ‘ইয়া আরহামার রাহিমিন’। আর তিনি তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।
তিনি বলেন, সুবহে সাদিকের সময় আল্লাহ তাআলা নিচের আকাশে এসে পৃথিবীতে মুসলিম উম্মাহকে ডাকে বলেন, ও বান্দা, এখনো কি আমার কাছে ফিরে আসার সময় হয়নি, তওবা করার সময় আসেনি, আর কতদিন আর কতকাল অপেক্ষা করবে! সময় তো হাতে নেই বেশি, আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাদের মাফ করে দিই। তোমাদের যা প্রয়োজন আমাকে বলো, আমি দিয়ে দিই।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) বাদ এশা জামেয়া হেমায়াতুল ইসলাম গড়গাঁও টাইটেল মাদরাসা মসজিদে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত ইসলাহী ইজতেমায় মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
অন্তরে একমাত্র আল্লাহকে জায়গা দিতে হবে জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আল্লাহর জিকির অন্তরে শান্তি দেয়, মনে প্রফুল্লতা সৃষ্টি করে। জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়। পৃথিবীর সর্বত্র এখন অশান্তি বিরাজ করছে, তার অন্যতম কারণ হলো আমরা আল্লাহ বিমুখ হয়ে দুনিয়ামুখী হয়ে গেছি। পৃথিবীতে আবার শান্তি আসবে, যদি আমরা আল্লাহ মুখী হই। বেশি বেশি করে আল্লাহর জিকির করি। আল্লাহর জিকিরে অন্তরে শান্তি আসে। এতে করে দ্বীনের কাজকর্ম করতে ভালো লাগে।
অন্তর চক্ষু খোলার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, গুণাহের আধিক্যে আমাদের অন্তর কালচে হয়ে গেছে। আমাদের অন্তর চক্ষু বন্ধ হয়ে গেছে। ঈমানের রৌশনিতে অন্তর চুক্ষু খুলতে হবে। আল্লাহর নামের জিকির করতে হবে। আর অন্তর চক্ষু খুলে গেলে পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল [সা.] কে দেখার সৌভাগ্য আমাদের নসিব হবে।
আল্লাহ তাআলাকে দিলের সাথী, নবীজী মুহাম্মদ (সা.)-কে আমলের সাথী বানানোর কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী বলেন, আল্লাহ তাআলাকে সবসময় অন্তরে রাখতে হবে এবং নবীজী (সা.)-কে আমলে রাখতে হবে। যদি তুমি সর্বদা আল্লাহকে অন্তরে এবং নবীজীকে আমলে রাখো, তাহলে জান্নাত তোমার জন্য অনিবার্য হবে।

ইসলাহী ইজতেমায় এশা নামাজের পর দুরুদ শরীফের আমল পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।
ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি, করোনা মহামারি থেকে মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।
জামেয়া হেমায়াতুল ইসলাম গড়গাঁও টাইটেল মাদরাসা মুহতামিম আলহাজ্ব ক্বারী শায়খ মুহাম্মদ শামসুল হকের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা মঈনুল হক চৌধুরী, মাওলানা হোসাইন আহমদ বাহুবলী, মাওলানা শোয়াইব আহমদ, মাওলানা হোসাইন বারোকুটী, কানাইঘাট উপজেলা বাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল্লাহ শাকির, চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসেন চতুলি ও মৌলভীবাজারের আলেম উলামাসহ দেশের বরেণ্য অসংখ্য উলামায়ে কেরাম।


