যেখানে যৌতুকের গন্ধ পাবেন, মেয়ে দেবেন না : মাহমুদ মাদানী

যেখানে যৌতুকের গন্ধ পাবেন, মেয়ে দেবেন না : মাহমুদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : লোভের কোন শেষ নেই, যতই দেয়া হোক পেট তার ভরে না। আমি সব বাবা-মাদের বলব, যেখানে ছেলে পক্ষ থেকে সামান্যতম যৌতুকের গন্ধ পাবেন সেখানে মেয়ে বিয়ে দেবেন না বলে জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল, আওলাদে রাসুল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আস’আদ মাদানী।

তিনি বলেন, ইসলামে যৌতুক দেয়া এবং নেয়া উভয়টা হারাম। যেখানে যৌতুক আদান প্রদান হবে, সে বিয়ে সবাই মিলে বয়কট করুন এবং অনাড়ম্বর সাদাসিধেভাবে বিয়েকে প্রমোট করুন নচেৎ যৌতুকের ঘটনা ঘটবেই। এর থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় থাকবে না। কারণ লোভের পেট কবরের মাটি ছাড়া আর কিছু ভরতে পারে না।

শনিবার (০৬ মার্চ) গুজরাতের কাচ আঞ্জারে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নির্মিত ‘জমিয়ত চিলড্রেন ভিলেজে’ ২০০২ এর গুজরাত দাঙ্গা থেকে জমিয়তে হিন্দের উদ্ধার করা সেই মাত্র ১৪ ঘন্টার নবজাতক শেখ মরিয়মের বিবাহ পড়াতে এসে এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি।

ইসলামে হারাম হওয়া সত্ত্বেও কেন যৌতুকের স্বীকার হতে হচ্ছে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মাহমুদ মাদানী বলেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে জমিয়তে হিন্দ কাজ করে আসছে প্রায় ৩০ বছর যাবত। বেশ অগ্রগতি হলেও এর সামগ্রিক সফলতা ও ফলপ্রসূতা আসছে না সাধারণ মানুষের নিদারুন অজ্ঞতার দরুন।

এছাড়াও সমাজে চলমান কিছু গুনাহের দায় কোন ব্যক্তি বিশেষের উপর বর্তায় না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে এর দায় চাপে গোটা সমাজব্যবস্থার উপর। যেমন ধরুন, বিয়েতে সেরেফ লোক দেখাতে অনর্থক ও বাহুল্য খরচাদি। যৌতুকও এর ভেতরে পড়ে। ইসলামি সংস্কৃতিতে এর কোন স্থান নেই। কিন্তু সামাজিকভাবে এগুলোকে সমর্থন করা ও উস্কে দেয়ায় নৈতিকতা এবং ভারসাম্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। সামাজিক ভিতকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। অবক্ষয়ের দিকে ক্রমশ নেমে চলেছে আমাদের সমাজ। এসবের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে আমাদের দাঁড়াতে হবে। জমিয়তে হিন্দ ৩০ বছর ধরে এ সামাজিক অবক্ষয় রোধের চেষ্টা চলে আসছে বলেও জানান আওলাদে রাসুল।

আরও পড়ুন: পরবর্তী প্রজন্ম ভবিষ্যতের আমানত, তাদেরকে মূল্যবান করুন : মাহমুদ মাদানী

জমিয়ত চিলড্রেন ভিলেজ নিয়ে পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে মাওলানা মাদানী বলেন, জমিয়ত চিলড্রেন ভিলেজ কার্যক্রমটা আমাদের সম্পূর্ণ নতুন কনসেপ্ট। প্রচুর এতিমখানা আছে যেখানে এতিম শিশুরা লালিত পালিত হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল, বাচ্চারা যে এতিম এই অনুভূতিটাই যেন শিশুমনে না জাগে। এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে আমাদের এই জমিয়ত চিলড্রেন ভিলেজ। শৈশব থেকে ধর্মীয়, সাধারণ মিডিয়াম, ইংরেজি মিডিয়াম থেকে শুরু করে সবধরনের শিক্ষা-দীক্ষা প্রদান করা হয় তাদেরকে। এটা আমাদের প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টায় আপনারাও এগিয়ে আসুন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গুজরাতে যৌতুক নিয়ে নির্যাতনে আয়েশা নামের এক মুসলিম তরুণীর লাইভে এসে হাসিমুখে আত্মহত্যার ভিডিও নাড়া দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। সেই সময়ে ২০০২ এর গুজরাত দাঙ্গা থেকে উদ্ধার মাত্র ১৪ দিনের নবজাতক শেখ মরিয়মকে সার্বিক শিক্ষা-দীক্ষাসহ বিয়ে দিয়ে তুলে দিল ভারতের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *