ইসলামী পরিভাষাগুলোকে পাল্টে ফেলেছে জামায়াত : আল্লামা মাসঊদ

ইসলামী পরিভাষাগুলোকে পাল্টে ফেলেছে জামায়াত : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জামায়াতে ইসলামী ইসলামের মৌলিক পরিভাষাগুলোকে পাল্টে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইকরা বাংলাদেশ ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আম্বিয়ায়ে কেরাম (আলাইহিমুস সালাম) সমাজকে কাজের ক্ষেত্র বানিয়েছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, চ্যালেঞ্জ! আজ পর্যন্ত কোনো নবী হুকুমাত (ক্ষমতায়ন)-কে কাজের ক্ষেত্র বানান নাই। তাঁরা কাজ করেছেন সমাজকে নিয়ে, সমাজের মানুষকে নিয়ে। কীভাবে সমাজের সকল মানুষ আল্লাহওয়ালা হয়ে যাবে, দিনরাত তাঁরা এ নিয়ে কাজ করেছেন।

দুনিয়াদার আর দ্বীনদারের মাঝে পার্থক্য করতে গিয়ে ফিদায়ে মিল্লাতের এই খলীফা বলেন, যারা হুকুমাত (ক্ষমতায়ন)-কে সব কিছুর মূল কেন্দ্রবিন্দু বানায়, তারা দুনিয়াদার। আর যারা সমাজকে আখিরাতমুখী করার জন্য কাজ করে, তারা দ্বীনদার।

আরও পড়ুন: রেওয়াজি দীন নয়, হাকীকী দীন পালন করতে হবে : আল্লামা মাসঊদ

জামায়াতে ইসলামী ইসলামের পরিভাষাগুলোকে পাল্টে ফেলেছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামের পরিভাষাগুলোর বিকৃতি সাধন করেছে। তারা ইসলামকে মানুষের সামনে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা ইসলামের একটি মৌলিক পরিভাষা ‘ইকামাতে দ্বীন’ এর অর্থ করেছে ‘রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা’। অর্থাৎ, ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের এই বিশ্বাস ইসলামের পবিত্র আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। আজ পর্যন্ত কোনো নবী বা কোনো সাহাবী ‘ইকামাতে দ্বীন’ এর এই অর্থ করেন নাই।

আম্বিয়ায়ে কেরাম (আলাইহিমুস সালাম) ও জামায়াতে ইসলামীর চিন্তার মাঝে পার্থক্য করতে গিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালামের আক্বিদা-বিশ্বাস ছিল, স্টেট-রাষ্ট্র সমাজের অধীন। সমাজ স্টেটের অধীন না। আর ফিতনাবাদী মওদুদীবাদের আক্বিদা হলো, সমাজ স্টেটের অধীন।

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার নাম ইসলাম হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাফেরদের প্রস্তাব গ্রহণ করতেন উল্লেখ করে শাইখুল ইসলাম আল্লামা মাসঊদ বলেন, মক্কার কাফেরদের সর্দাররা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে টাকা-পয়সা, নারী ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ঈমানের দাওয়াতকে বন্ধ করতে চেয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাইলেই ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু কোনোটাই গ্রহণ করেননি। বরং তিনি বলেছিলেন, আমার কিছুই চাই না। শুধু তোমরা বলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলামের মতাদর্শের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র হল মদিনা। কিন্তু মদিনার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিহাদ করতে হয় নাই।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আদর্শ মন্তব্য করে শোলাকিয়া ইদগাহের ইমাম বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল ও কামিয়াব হতে যা যা প্রয়োজন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ২৩ বছরের জীবনে সব কিছুর নমুনা রেখে গিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আদর্শ ব্যক্তি।

নবীগণ কাজ করেছেন সমাজকে নিয়ে, সমাজের মানুষকে নিয়ে

জিহাদের ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী তা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, জিহাদ নিয়ে অনেকেই ভুল আক্বিদা পোষণ করে থাকেন। তারা কিছু না হতেই বাইতুল মোকাররামের গেইটে জিহাদের ডাক দিয়ে থাকেন। কোরআন-হাদীস ঘেটে দেখা যায়, যখন মুসলমানরা নির্যাতিত-নিপীড়িত ছিল, মুসলমানদেরকে ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনে বাঁধা দেয়া হচ্ছিলো, তখন আল্লাহ তাআলা জিহাদের অনুমতি দিয়েছেন।

আমেরিকা কেন আফগানিস্তানে টিকতে পারল না এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এতো সৈন্য-সামন্ত নিয়েও আমেরিকা আফগানিস্তানে টিকতে পারে নাই, কারণ তারা আফগান সমাজ ও সমাজ ব্যবস্থাকে বুঝতে পারে নাই। আর আফগানিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাত্র দুইটা দেশ সফর করেছেন, তিনি যতটা আফগান সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, বাইরের আর কেউ ততোটা জ্ঞান রাখে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *