- আমিনুল ইসলাম কাসেমী
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি বিশ্বময় দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। তিনি আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। একজন প্রতিভাধর আলেম এবং কামেল শখছিয়্যাত। যিনি এখনো অনন্য, অতুলনীয়। জাতির ক্রান্তিকালে আজো যাকে নিয়ে গর্ব করি। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে। দেশের ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি রক্ষার্থে ১৯৭১ সনে বুক ফুলিয়ে সামনে দাঁড়ায়ে ছিলেন। দেশের মাটি থেকে পাক হানাদার বাহিনীকে বিদায় করে স্বাধীনতার লাল সূর্য উপহার দিয়েছিলেন। আজ তাঁকে নিয়ে বারবার গর্ব করি। এখনও এই দেশে তাঁর সর্বক্ষেত্রে অবদানের কথা স্মরণ করি।
একজন চিন্তাশীল আলেম আল্লামা মাসঊদ সাহেব। একদিকে যেমন তুখোড় মেধাবী। দারুল উলুম দেওবন্দের এযাবত কালের মেধাবী মুখদের অন্যতম এক ব্যক্তিত্ব। আবার তিনি কর্মজীবনে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। এদেশের ইলমী অঙ্গন, আত্মশুদ্ধির ময়দান, কওমী মাদ্রাসাকে অনন্য উচ্চ শিখরে ওঠানো এবং জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার পিছনে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সোনালী হরফে লেখা থাকবে। এদেশের সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে মণিকোঠায় গেঁথে রাখবে চিরদিন।
এ যেন শাইখুল ইসলাম মাদানী ( রহ.) এর প্রতিচ্ছবি। হযরত মাদানী যেভাবে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক ছিলেন। পুরো ভারতবর্ষ স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রসেনানী তিনি। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আমরণ লড়াই করেছেন এবং সে সংগ্রামে তিনি বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নেন। দোর্দান্ড প্রতাপশালী ব্রিটিশকে চিরতরে বিদায় করে দেন।
দেশ স্বাধীনে আল্লামা মাসঊদ এর অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।
আবার মাওলানা মাদানী ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুহাদ্দিস। হাদীসের মসনদের মহা সম্রাট। সেই সাথে আত্মশুদ্ধির ময়দানের মহান সাধক। ফকীহুন নফস, কুতুবে রব্বানী রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহীর আজাল্লে দরজার খলিফা। ঠিক আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সেই মাদানীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন। হুবহু তাঁর পথে পা বাড়িয়েছেন। দেশ স্বাধীনে আল্লামা মাসঊদ এর অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। ইলমী ময়দানের প্রাণপুরুষ। সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবত বুখারী শরীফের দরস দিচ্ছেন।
শত শত লেখনী রয়েছে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের। যার লিখিত কিতাব বিশ্ব বিখ্যাত বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। আবার সুলুকের লাইনে তাঁর এখন বিশাল পদচারণা। ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী (রহ.) থেকে খেলাফত-ইজাযত লাভের পর এ ময়দানের বড় শায়েখ তিনি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। দেশের সবখানে তাঁর ইসলাহী প্রোগ্রাম হচ্ছে। হাজারো আলেম এবং সাধারন মানুষের পিপাসা নিবারণ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মানুষের দ্বারে দ্বারে আত্মশুদ্ধির মেহনতে তাঁর জান কোরবান হচ্ছে।
অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আল্লামা মাসঊদ। যিনি এখন আলেমদের ছারে তাজ। দেশের শিক্ষাঙ্গনে এবং আলেম-উলামাদের সঠিক রাহবারী করে থাকেন। কওমী সনদের স্বীকৃতি আদায়ে তিনি যেন বুক চিতিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সে সঠিক সিদ্ধান্ত এ দেশের আলেম সমাজ স্মরণ রাখবে। সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ দমনে তাঁর সীমাহীন ভূমিকা। তাঁর কর্মগুলো বিশ্ব দরবারে সমাদৃত। বিশেষ করে তাঁর অবদানে এদেশের আলেম সমাজ জঙ্গী তকমা থেকে ত্রাণ লাভ করেছে। লাখো আলেমের ফতোয়া প্রকাশ করে যিনি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। যার আলো ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়।
একজন বাংলাদেশী আলেম হয়ে পুরো বিশ্ব ব্যাপি যিনি তাঁর কর্মের অবদানে খ্যাতি অর্জন করে চলেছেন।
বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তিনি। পুরো মুসলিম বিশ্বের মাঝে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। যেটা একজন বাংলাদেশী আলেমের জন্য বড় পাওনা। নিশ্চয়ই এই মহান ব্যক্তি আমাদের গর্বের বিষয়। একজন বাংলাদেশী আলেম হয়ে পুরো বিশ্ব ব্যাপি যিনি তাঁর কর্মের অবদানে খ্যাতি অর্জন করে চলেছেন। সেটা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।
চতুর্মুখি জ্ঞান সম্পন্ন একজন আলেম। তাঁর অবদানও চতুর্মুখি। কোন সেক্টরে নেই? সব সেক্টরেই তাঁর অপরিসীম অবদান। সবখানেই তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব। ৭১ মুক্তিযুদ্ধ থেকে নিয়ে এদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পদচারণা দেখা যায়। এই মহান আলেমেদ্বীন জাতির পরতে পরতে সঠিক পদক্ষেপে দ্যুতি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এজন্য তাঁকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর হায়াতে বরকত দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও কলামিষ্ট
আরও পড়ুন: তাঁর বয়ানে প্রশমিত হয় হৃদয়ের যাতনা


