অনেক উঁচু ইলমি মাকামে অধিষ্ঠিত আল্লামা মাসঊদ : মাহমুদ মাদানী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর শ্রেষ্ঠ খলিফা শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে একজন আলাদা মর্যাদার আলেমেদ্বীন উল্লেখ করে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারী জানেশীনে ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী বলেছেন, শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে অসংখ্য প্রশংসায় ভূষিত করা যায়৷ মাশাল্লাহ তার অনেক উঁচু ইলমী মাকাম দিয়েছেন মহান আল্লাহ। অনেক কিতাব বাংলায় তরজমা করেছেন। বুখারী শরীফ এবং অন্যান্য বড় বড় গ্রন্থও বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের উস্তাযুল আসাতেযা। ছাত্রজীবন থেকেই আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ ছাত্রের শেকেলে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিশেষ উঁচু ব্যক্তি হিসেবে কবুল করেছেন।
জমিয়ত উলামা হিন্দের ইয়ূথ ক্লাব আয়োজিত আলোচনাসভায় রোববার মাওলানা মাহমুদ মাদানী এসব কথা বলেন।
নওজোয়ানদের শারীরিক কসরৎ শেখানোর প্রতি আকাবিরদেরও ইচ্ছা ছিল দাবি করে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, ১৯৬০ এর পর থেকেই আমাদের আকাবিররা ভাবলেন যে নওজোয়ানদের শারীরিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি ও তরবিয়তের প্রয়োজন। এ বিষয়ে সময়ে সময়ে অনেক কাজ হয়েছে এমনকি (কুদ্দামে মিল্লাত…) একটি শো’বাও বানিয়েছেন এবং এর জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে এটিকে আন্দোলনের কাজ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটা ১৯৭১ এ। অতপর আমাদের হযরত রহ. এ ব্যাপারে কয়েকবার চেষ্টা করেছেন যে নওজোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে শারীরিক ও মেধাভিত্তিক তরবিয়ত করা হবে এবং স্কাউটের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হবে৷ তবে তার এ চেষ্টাটা সফল হয়নি। তার সময়ে তিনি কয়েকবার এ ব্যাপারে এলান করা হয়েছিল এবং উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। ইতিপূর্বে চার পাঁচ বছর পূর্বে আমরাও শুরু করেছি। তিন চার বছর পর আমাদেরও মনে হয়েছিল আর আমরা ব্যর্থ হয়ে যাব। তারপর শেষবার এটিকে পূর্ণোদ্যোমে করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হল যে এর উপর নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবকিছুর সাথে পূর্ণ সময়ও প্রয়োগ করা হবে। অন্যান্য কাজের সঙ্গে এটিকেও প্রায়োরিটি দেয়া হবে৷ তো আলহামদুলিল্লাহ এটি দাঁড়িয়ে গেছে।
১৩ জেলার জমিয়ত নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আয়োজিত সভায় যুবকদের স্বতুস্ফূর্ত সাড়া পেয়ে নিজেদের সন্তোষ প্রকাশ করে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, ইতিমধ্যে সূচনাতেই কয়েক হাজার নওজোয়ান আমাদের এখনই তৈরি আছে৷ আর শুরু করার পর এখন পর্যন্ত বিশেষ প্রশিক্ষিত এমন চার’পাঁচশো নওজোয়ান আমাদের তৈরি হয়েছে যাদের ব্যাপারে বলতে পারি তারা অনেক এগিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আরো সাতটি স্তর আছে যেখানে তাদের ট্রেনিং করানো হবে। তো এ কাজে এখন পর্যন্ত আমরা ষোলটি জেলাকে নির্বাচন করেছি। অর্থাৎ ১৬ জেলায় আমরা আমাদের এ কাজ পরিচালনা করবো। যার মধ্যে ইউপি ও গুজরাট আছে। আর গুজরাটে আমরা বিশেষভাবে কাজ করেছি কারণ, গুজরাট অনেক এলাকার চেয়ে এগিয়ে গেছে। আমাদের সব কাজ ব্যাপকভাবে ওখানেই হত তাই মাগরীবি ইউপি পিছিয়ে পড়েছে৷ এখন থেকে ইনশাআল্লাহ এখানেও পুরোদমে কাজ চলবে এবং মাগরীবি ইউপিও এগিয়ে যাবে।
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাওলানা মাদানী বলেন, তো হযরতকে আমি শুনাচ্ছি! আমি গতকাল গুজরাট থেকে এসেছি। সেখানে এক আশ্চর্য অবস্থা দেখলাম। আল্লাহু আকবার। মায়েরা অর্থাৎ বাচ্চাদের মায়েরা এসে বসে থাকে। দেখে তাদের ছেলেরা ঠিকঠাক ট্রেনিং করছে কি না। এক আশ্চর্য অবস্থার মধ্য দিয়ে সেখানের লোকেরা কাজ করছে। তাহাজ্জুদের নামাজ হচ্ছে নিয়মিত। ফজরের জামাত হচ্ছে মাঠে। মোটকথা তাদেরকে আলাদা কওম হিসেবেই মনে হয়েছে। তো সেটাই আল্লাহ তায়ালা যার দ্বারা কাজ নেবেন তাকে আগে বাড়িয়ে দেবেন। তো এখানেও মাগরীবি ইউপিতেও তাই হবে ইনশাআল্লাহ। এখানে এলাকাও বড়। আমাদের আকাবিররা তো এখানকারই। শামেলীর ময়দানে আমাদের আকাবিররা তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছে। তাহলে ইউপির জমিন এখন কীভাবে শুকনো থাকবে আমার বুঝে আসে না৷
প্রসঙ্গত, ১৬ জুন ২০১৯ জমিয়ত ইয়ূথ ক্লাবের একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, জমিয়তে উলামা হিন্দ ইয়ূথ ক্লাব আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর শ্রেষ্ঠ খলিফা শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। সঙ্গে ছিলেন আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও ইকরা বাংলাদেশ স্কুলের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।
গ্রন্থনা ও শ্রুতিলিখন : আদিল মাহমুদ ও কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : জমিয়তে উলামা হিন্দ দিল্লী অফিস



