আসিয়া বিবির মুক্তিকে সঠিক মানলেন ইমরান খান

আসিয়া বিবির মুক্তিকে সঠিক মানলেন ইমরান খান

পাথেয় রিপোর্ট : ইসলাম অবমাননা মামলায় খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবিকে বেকসুর খালায় দিয়েছে আদালত। অাসিয়া বিবির মুক্তির পরই পাকিস্তানজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মানুষের বিক্ষোভ। অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ইমরান খান জানিয়েছেন ”আদালতের রায়কে তিনি সমর্থন করছেন, আসিয়া বিবিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক।

আদালতের রায়ে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে পড়লে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে সংবাদ মাধ্যম মারফত নিজের মতামত জানান ইমরান খান। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নেমে ইমরান খান জানান সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে তিনি সমর্থন করছেন। আসিয়া বিবিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক। তিনি জানান যাঁরা এর বিরোধিতা করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইমরান সতর্ক করে দেন তাঁরা যেন সরকারের সঙ্গে বিরোধিতা না করে।

আসিয়া বিবির ধর্মাবমাননা মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়ার পরই পাকিস্তানের সেনা প্রধান কামার জাভেদ বাজওয়াকে অমুসলিম বলা শুরু হয়েছে। এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য উসকানো হচ্ছে। এছাড়াও পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মামলার রায় বেরোনোর পরেই ইসলামাবাদ, লাহোর, পেশোয়ার, ও করাচি সমেত বিভিন্ন শহরে ‘তেহরিক-এ-লাব্বাইক পাকিস্তান’ (TLP) এর সদস্যরা রাস্তায় নেমে পড়েন ও বেশ কিছু রাস্তা অবরোধ করেন। গণ্ডগোল করে বিভিন্ন জায়গা আটকে রাখেন দলটির আন্দোলনকারী সদস্যরা। এসময় বেশ কিছু জায়গায় সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিও হয় তাদের।

এ অবস্থায় পাকিস্তানের পঞ্জাব, সিন্ধ ও বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ায় ৩১ শে অক্টোবর থেকে ১০ই নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে পশাসন।

উত্তপ্ত অবস্থা সামাল দিতে ৩১ অক্টোবর বুধবার রাত আটটা নাগাদ বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে ইমরান খান। সারা দেশের মানুষকে শান্ত হতে বলেন তিনি। তিনি বলেন, আসিয়া বিবি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা সংবিধান অনুযায়ী রায় দিয়েছেন এবং পাকিস্তানের সংবিধান ইসলাম ধর্মানুসারেই তৈরি হয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন সুপ্রিম কোর্ট আপনাদের পছন্দ অনুযায়ী রায় ঘোষণা করবে না। এভাবে কোনও দেশ চলতে পারে না। সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতিদের হত্যার হুমকিকে দেশদ্রোহিতা বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের সেখপুরা জেলার এক খ্রিস্টান অধ্যুষিত ছোট গ্রামে জন্ম হয় আসিয়া বিবির। লাহোর শহর থেকে ওই গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৩০ মাইল। ২০০৯ সালে ধর্মের অবমাননা এবং মহানবীকে কটুক্তি করার অভিযোগ ছিল আসিয়া বিবির বিরুদ্ধে। হয়েছিল কারাবাস। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে মিলল মুক্তি। বুধবার তাকে বেকসুর খালাস বলে ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত।লাহোর আদালত থেকেই শুরু হয়েছিল তার আইনি লড়াই।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৯ সালের জুন মাসে। স্থানীয়দের অভিযোগ আসিয়া বিবি নামের ওই ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী নারী ইসলাম ধর্মের অবমাননা করেছিলেন। অমুসলিম হয়েও প্রতিবেশী মুসলিমের গ্লাস থেকে পানি খেয়েছিলেন আসিয়া বিবি। প্রবল তৃষ্ণায় সেই প্রতিবেশীর নিষেধ অমান্য করেই পান করে ফেলেছিলেন গ্লাসের পানি। অভিযোগকারীরা বলেন, এতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা হয়েছে। অসম্মান করা হয়েছে মহানবী সা.-এর নির্দেশকে। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশিদের সঙ্গে বচসার সময় নাকি মহানবীকে অসম্মানও করেছেন আসিয়া বিবি। এমন অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।

সেই কারণে ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে আসিয়া বিবি-কে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় লাহোরের আদালত। সেই সময় থেকে জেলেই রয়েছেন আসিয়া বিবি। যদিও ক্ষমা চেয়ে মুক্তির জন্য পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল অভিযুক্ত আসিয়া বিবি। যার শুনানি চলেছে দীর্ঘদিন ধরে।

বুধবার সেই মামলার চূড়ান্ত রায় সামনে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসার, আসিফ সাইদ খোসা ও মাজহার আলম খান মিয়ানখেল আসিয়া বিবিকে যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়ে খুশি আসিয়া বিবির আইনজীবী সাইফুল মুলুক। তিনি তার আনন্দ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আজ আমার জীবনের অন্যতম সুখের দিন। এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে যে পাকিস্তানের দরিদ্র এবং সংখ্যালঘু মানুষেরা সমস্যায় থাকলে আদালতে বিচার পান।’

আসিয়া বিবি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *