জীবনে সামান্য আলো পাওয়ার আশায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায় বাংলাদেশের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিল সত্য, মানবতার মুক্তির যে গল্প শুরু হয়েছিল তা বাস্তবে রূপ নেবে আজকের এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যত দ্রুত শুরু হবে। যদি কালবিলম্ব করা হয় তা বাংলাদেশের মানুষের জন্য যতটা ক্ষতির তেমনি সঙ্কটাপন্ন রোহিঙ্গারাও পায়ের নিচে মাটি পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করে মিয়ানমার সরকার বিষয়টিকে কেবল বিলম্বিত করেই চলেছে। পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ তা ভুলে যাওয়ার নয়। আমরা জানি, বাংলাদেশ সরকার মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ভার সহজে বহন করা এক কথায় কষ্টকর ও অসম্ভব প্রায়। তবে এটা সত্য যে, আন্তর্জাতিক সহযোগীরা বাংলাদেশের পক্ষে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। ফলে আশ্রয় ও খাবারের সংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে। এই সাময়িক ব্যবস্থায় এত মানব সম্পদকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা করা নিতান্তই বোকামী। তা অতিরিক্ত দিন চলতে পারে না।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত বছর নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পাদিত হলেও এর আওতায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল। মিয়ানমার সেই তালিকা থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৯ দফায় প্রায় চার হাজার ৬০০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার ৫০০ জনের একটি তালিকা মিয়ানমার বাংলাদেশকে দিয়েছে। কিন্তু তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নানা ছুতায় মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে বলে খবর গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
অবশ্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব এক সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছেন যে নভেম্বরের মাঝামাঝি প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব মিন্ট থু সাংবাদিকদের বলেছেন, ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গারা যাতে বৈষম্যের শিকার না হয় সে জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের কর্মশালা করানো হচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার জেডাব্লিউজির বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রতিনিধিদল একসঙ্গে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছে।
আমরা মনে করি, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইতে হবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হোক এবং রোহিঙ্গারা ফিরে পাক নিজেদের মাতৃভূমি।


