পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সর্দার বল্লভভাই পাটেলের মূর্তি ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ উন্মোচন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসময় তিনি বলেন, এই দিনটির জন্যই তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। ”আজকের দিনটি ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে
অভিযোগ আছে এ মূর্তি উন্মোচন হলেও এখনো ম্লান হয়নি আদিবাসী বিক্ষোভ। শুরু বা শেষের বিতর্ক এখনো আছে। অভাবী জনগণের পেটে দানা না পড়া এবং গ্রামের পর আধুনিক ভারতের ছোঁয়া না পেলেও ২৯৯০ কোটি টাকা খরচে সব বিতর্ক ও প্রশ্ন পেছনে রেখেই বল্লভভাইয়ের মূতিটি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ ৩১ অক্টোবর বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সর্দার বল্লভভাই পাটেলের মূর্তি ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ উন্মোচন করেছেন মোদি।
সর্দার বল্লভভাই পাটেলের ১৪৩তম জন্মবার্ষিকীতে ভারতের ‘লৌহ মানব’-এর উচ্চতম মূর্তিটি উদ্বোধন করেন মোদি।
গুজরাটের কেওড়িয়াতে নর্মদা নদীর ওপর তৈরি করা হয়েছে বল্লভভাই পাটেলের মূর্তিটি। ২৯৯০ কোটি টাকা খরচ করে মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে।
মূর্তি উন্মোচন ঘিরে আজ সাজানো হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা। তৈরি করা হয়েছে ১২ বর্গ কিলোমিটার কৃত্রিম হ্রদ। মূর্তি তৈরির দায়িত্বে ছিল নির্মাণ সংস্থা লার্সেন অ্যান্ড টার্বো এবং সর্দার সরোবর নর্মদা নিগম লিমিটেড। মূর্তির নকশা তৈরি করেছেন পদ্মভূষণ প্রাপ্ত স্থপতি রাম ভি সূতর। লৌহমানবের মূর্তিও লোহার মতোই মজবুত। রিখটার স্কেলের ৬.৫ কম্পন অনায়াসে সহ্য করতে পারবে এই মূর্তি। ১৮২ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট এ মূর্তিটি নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির দ্বিগুণ উঁচু।
সর্দার সরোবর বাঁধ থেকে ৩.৩২ কিলোমিটার দূরত্বে এই মূর্তিটি রাখা হয়েছে এমন জায়গায় যেখানে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের সংযোগস্থল৷ ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর শুরু হয় মূর্তির নির্মাণ কাজ। প্রায় তিন হাজার শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে মূর্তির সঙ্গে।
মূর্তি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছে ৫৭০০ টন স্টিল, ২২,৫০০ টন সিমেন্ট, ১৮,৫০০ টন স্টিল রড এবং ১৮.৫ লাখ কেজি ব্রোঞ্জ ক্ল্যাডিং। মূর্তির ১৫৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে গ্যালারি।
মূর্তিতে দু’টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লিফট রয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ২৬ জনের বেশি পর্যটক চাপতে পারবেন এই লিফটে। রয়েছে সেলফি পয়েন্ট, সেখানে যেতে গেলে মাথাপিছু টিকিটের দাম পড়বে ৩৫০ টাকা। টিকিট বুক করা যাবে অনলাইনে। মূর্তির ১৯৩ মিটার উচ্চতায় পর্যটকদের জন্য তৈরি হয়েছে গ্যালারি। প্রায় ২০০ পর্যটক এক সঙ্গে এই গ্যালারিতে দাঁড়িতে প্রাকৃতিক শোভা দেখতে পাবেন। ১ নভেম্বর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই মূর্তি।
মূর্তি উদ্বোধনের আগে মোদি জানান, এই দিনটির জন্যই তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। ”আজকের দিনটি ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ ভারত বর্তমান ইতিহাসকে উজ্জ্বল করল। এটা দেশবাসীকে ভবিষ্যতে চলার পথে প্রেরণা যোগাবে।”
গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ


