আহ্ দেওবন্দের স্টুডেন্ট ভিসা, আবার যেতে চায় মন
মনে চায় আবার দেওবন্দ চলে যাই
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : শুনতে পাচ্ছি, ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারাণ পুর জেলায় অবস্হিত, বিশ্ব বিখ্যাত ইলমী মারকাজ দারুল উলুম দেওবন্দে পড়ার জন্য বাংলদেশী ছাত্রদের স্টুডেন্ট ভিসা চালু হচ্ছে।
খবরটা পেয়ে মনের মাঝে দোলা দিয়ে উঠল। মনে চাচ্ছে, আবারও দেওবন্দ গিয়ে ভর্তি হই।
এরকম সুবর্ণ সুযোগ আমাদের সময় ছিল না। আমাদের সময়ের ছাত্ররা বহু কষ্ট ক্লেশ সহ্য করে দেওবন্দে পড়ে ছিলেন। দারুল উলুমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও অনেক আতংকের মধ্যে কাটাতে হত। কেউ কেউ দুই তিন মাস পরপর দেশে ফিরতেন ভিসা নবায়নের জন্য। আবার কেউ তো একেবারে দারুল উলুমের ভিতর থেকে আর বের হতেন না। একদম বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাইরে বের হতেন।
আলহামদুলিল্লাহ, এখন যদি ভিসা চালু হয়, অনেক অনেক ভাল হবে। আমাদের দেশের মেধাবী ছাত্র গণ অনায়েসে দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়ার সুযোগ পাবে। দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে বাংলাদেশী আলেমদের সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।
অবশ্য দারুল উলুম দেওবন্দে স্টুডেন্ট ভিসা চালুর ব্যাপারে আমাদের দেশের আলেমগণ বহু দিন যাবত কোশেশ করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব দীর্ঘ দিন তাঁর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
আমার মনে আছে, ১৯৯৬ সনে যখন আমরা দেওবন্দে পড়ি, সে সময়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ সাহেব দেওবন্দ সফর করেছিলেন। দারুল উলুমের মসজিদে কদীমে বাংলাদেশী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ফরীদ সাহেব বক্তৃতা করেছিলেন। সে বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশী ছাত্রদের স্টুডেন্ট ভিসার ব্যাপারে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, সে কথা সেদিন বলেছিলেন।
যাইহোক অনেক পরে হলেও সেই কাজ সফলতার মুখ দেখতে পাচ্ছে, এজন্য মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।( আলহামদুলিল্লাহ)
সম্প্রতি আমাদের একজন সেরেতাজ আলেম ডক্টর মুশতাক আহমদ সাহেবের নেতৃত্বে এক উলামায়ে কেরামের জামাত দারুল উলুম দেওবন্দে পড়ার জন্য ছাত্রদের স্টুডেন্ট ভিসার ব্যাপারে দৌড়ঝাঁপ করছেন, তাদেরও মোবারকবাদ জানাই।
আবার আল্লামা মাসউদ সাহেবও তাঁর প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রেখেছেন। এজন্য সকল আলেমদের জন্য আমরা দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সন্তানদের মাদারে ইলমী দারুল উলুম দেওবন্দে পড়া সহজ করে দেন। দারুল উলুমের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরো গভীর করে দেন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


