পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : উম্মত প্রেমের মানুষটাকে চিনলো না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন। তিনি বলেন, এই পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের থেকে এই উম্মতকে কেউ বেশি ভালোবাসে নাই এবং কেউ চেষ্টা করলেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের থেকে বেশি ভালেবাসতে পারবে না। পেয়ারে নবীর এত প্রেম, এত ভালোবাসার পরেও আমরা তাঁর আদেশ-নিষেধ মানি না। তাঁর সুন্নত পালন করি না। তাঁর দেখানো পথে হাঁটি না। দুনিয়ামুখী হয়ে, দুনিয়ার প্রেমে পড়ে, আমরা আসল মানুষটাকে ভুলে গেছি। প্রেমের মানুষটাকে ভুলে গেছি। অথচ তাঁকে ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। তাঁর প্রেমে মগ্ন থাকা আমাদের দায়িত্ব।
আমরা রাসূলের উম্মত, আমাদের এর থেকে বড় কোন পরিচয় হয় না দাবি করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আমাদের গর্ব আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত। দুনিয়া এবং আখেরাতে আমাদের এর থেকে বড় কোন পরিচয় নেই। এর থেকে বড় কোন পরিচয় হতেই পারে না। দুনিয়াতে আপনি যত বড় সম্মানিত ব্যক্তি হন, এমপি সাহেব হন, চৌধুরি সাহেব হন, আখেরাত আপনার এইসব পরিচয় কোন কাজে আসবে না। কিয়ামতের ময়দানে আপনার একটাই পরিচয়। আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত। শুধু রাসূলের উম্মতের কারণেও আপনি হাশরের ময়দানে নাজাত পেয়ে যেতে পারেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে এই উম্মতের জন্য কেঁদেছেন, পেরেশান হয়েছেন, আখেরাতেও কাঁদবেন, পেরেশান থাকবেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, কিয়ামতের ময়দানের আমাদের পেয়ারে নবী আমাদের চিন্তায়, তাঁর উম্মতের চিন্তায় পেরেশান থাকবেন। মাকামে মাহমুদে তিনি প্রথমে বসবেন না, এই ভয়ে, যদি মাকামে মাহমুদ তাকে নিয়ে জান্নাতে চলে যায়, তাহলে তাঁর উম্মতের কি হবে, তাঁর উম্মতকে কে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে, জান্নাতে নিয়ে যাবে।
১৮ জানুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া হাজী আনসারবাগ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
অজুর অঙ্গের ঝলকানি দেখে কাল হাশরে উম্মত চিনবেন উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, হাশরের ময়দানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতদেরকে চিনবেন অজুর অঙ্গ এবং সিজদাহের অঙ্গগুলোর ঝলঝলানি দেখে। একদিন এক সাহাবী পেয়ারে হাবীবকে জিজ্ঞেসা করলেন- হে রাসূল, হশরের ময়দানে এত এত মানুষের মধ্যে আপনি আমাদেরকে কীভাবে চিনবেন। তখন রাসূল বললেন, আমি অবশ্যই আমার উম্মতকে চিনবো। তবে তোমাদেরকে একটু সাহায্য করতে হবে। সুন্দর করে ওজু করে নামাজ পড়তে হবে। হশরের ময়দানে আমি আমার উম্মতের ওজুর অঙ্গ এবং সিজদাহের অঙ্গগুলোর ঝলঝলানি দেখে তাদেরকে চিনবো।
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, একবার সাহাবায়ে কেরাম-এর এক মজলিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেসা করলেন, বলো তো, আমার উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কারা। সাহাবায়ে কেরাম বলেন, হে রাসূল, আপনিই আমাদের থেকে ভালো জানেন। রাসূল বললেন, আমার ওই সমস্ত উম্মত, যারা শেষ যামানায় আমাকে না দেখে, ওহী নাযিল হওয়ার সময়কাল না দেখে আমার কথা মানবে, আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, আমাকে নবী ও রাসূল হিসেবে মেনে নিবে। তারাই আমার শ্রেষ্ঠ উম্মত।
জুমার বয়ান শেষে শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের হাজী আয়মুন্নেছা ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ সমাপনী ছাত্রদেরকে সম্মানজনক পাগড়ি পরান।
কান্নাই একমাত্র দোয়ার ভাষা দাবি করে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, দোয়া সমস্ত ইবাদতের মূল, কিন্তু দোয়ার কোন ভাষা নেই, একমাত্র কান্নাই দোয়ার ভাষা। দোয়া করার সময় শিশুর মতো কাঁদবে। যা কিচ্ছু চাওয়ার কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে চাইবে। অবশ্যই আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করবেন।
দোয়াতে আল্লামা মাসঊদ যখন, ইয়া রব, ইয়া রব, মালিক, ও মালিক, ক্ষমা করো, রহম করো, কবুল করে নাও, কবুল করে নাও বলে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন মসজিদের উপস্থিত মুসল্লিরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


