ক্ষমাহীন ম্যারাথন
জানতাম যদি বাড়লে বয়স-
হারায় খেলার মাঠ,
সময়ের পায়ে বেঁধে রাখতাম-
শৈশবের চৌকাঠ
কোথা হারালো-ভালো থাকা সব,
লাটিম-পুতুল খেলা, নাগরদোলা-ভেলা
দাগ কাটা ঘরে গুটি ছুঁড়ে দিয়ে,
কান্না পেলেই দৌঁড়ে গিয়ে – ধরতাম মায়ের আঁচল,
সে মায়ের আজ বেড়েছে বয়স – ফাঁকা পড়ে আছে তার’কোল
দম যাবেনা ফেলা
কোথা ফুরালো, গল্প সবি
মুড়ালো নটে গাছটি,
রাজকুমারী কি-উদ্ধার হলো?
রাক্ষস পেলো শাস্তি?
মনে পড়ে যায় সন্ধ্যেবেলা-
নামতা হলে শেষ,
হাটের পরে ফিরতো আব্বা-
হাতে করে সন্দেশ
কান্না পেলেই দৌঁড়ে গিয়ে
ধরতাম মায়ের আঁচল,
সে মায়ের আজ বেড়েছে বয়স-
ফাঁকা পড়ে আছে তার’কোল
ফোনের ওপারে মায়ের প্রশ্ন
“ফিরবি কবে বাড়ি?”
“আর কত বাবা দেরি?“
উত্তরে মাকে কিভাবে জানাই,
পারতাম যদি আমি,
ছুটে তো যেতাম আজি..
এখন আমার সকাল মানে-
ক্লাসের এটেনডেন্স।
পেটে পড়েনি দানা
দৌড়ে তবে আপিস ধরা-
নইলে জরিমানা
এ কেমন বয়স পেলাম খোদা
ক্ষমাহীন ম্যারাথন..
দুপুর বলে নেই কিছু আর,
অবসর সব স্ক্যাম,
বিকেল মানে আলোর বিদায়
সন্ধ্যে মানে জ্যাম
রাত্রি এলে ক্লান্ত শরীর,
ভেঙে পড়ছে মন
এ কেমন বয়স পেলাম খোদা
ক্ষমাহীন ম্যারাথন..
*
অবসাদ
খোদা!
আর কত তুফানে দাঁড়াইলে, আমার নাম হবে হিমালয়
অথচ, আমি তো চেয়েছিলাম-
শিমুলতুলার জীবন।
বসন্তের নরম বাতাসে উড়তে চেয়েছিলাম প্রজাপতির ডানায়।
লেখক, ছড়াকার


