ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার হচ্ছেন
ওসি মোয়াজ্জেম যেকোনো সময় গ্রেপ্তার
পাথেয় রিপোর্ট : গ্রেফতার হচ্ছেন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পেছনের সবচেয়ে বড় নায়ক মনে করা হচ্ছে তাকে। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হচ্ছেন তিনি। অগ্রিম জামিন চেয়েও গতি পাননি তিনি। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর সমালোচিত হওয়া সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারে অবশেষে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকাতেই মোয়াজ্জেমের পালিয়ে থাকার তথ্য পেয়েছে ফেনী ও রংপুরের পুলিশ। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ পালন করতে ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের একটি দল ঢাকায় এসেছে। সোমবার রাজধানীর কল্যাণপুরসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযানও চালিয়েছে তারা। তবে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেননি দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা।
ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও গত দুই সপ্তাহ পালিয়ে আছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। গত ৩ জুন ফেনীতে এবং পরবর্তী সময়ে রংপুরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছায়। রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম এখন পালিয়ে থাকলে খুঁজে পেতে হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।’
সোমবার জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাঁকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশ সদর দপ্তর এবং ফেনী পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ফেনীতে পাঠানো হয়। কারণ, মামলার এজাহারে মোয়াজ্জেমের কর্মস্থল ফেনী উল্লেখ ছিল। ফেনীর সোনাগাজী থেকে পরে আবার নতুন কর্মস্থল রংপুরে এই পরোয়ানা পাঠানো হয়। তবে পুলিশ সদর দপ্তর দুই এলাকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরই মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারে সচেষ্ট হতে নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, দুই জেলার পুলিশই বার্তা দেয় ওসি মোয়াজ্জেম ঢাকায় আছেন। এরপর হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের একটি দল সোমবার ঢাকায় এসে অভিযান শুরু করে। এই দলে আছেন সোনাগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন। মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা একটি অভিযানে ঢাকায় আছি। কী বিষয়ে অভিযান সেটা এখন বলা যাবে না।’
সূত্র জানায়, মোয়াজ্জেম রাজধানীর কল্যাণপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন বলে তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। এই সূত্রে সেখানেও অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে সোমবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেছেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছাতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম ব্যর্থতা প্রকাশ পায়। দীর্ঘসূত্রতার কারণে ওসি মোয়াজ্জেমের পালানোর ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে ওসি মোয়াজ্জেমকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।’


