কে হচ্ছেন বিএনপির নারী এমপি
পাথেয় রিপোর্ট : আলোচনা এখন তুঙ্গে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নিলেও দলের অবস্থান বদলে সবাই যোগ দিয়েছেন সংসদে। দলের এই মহাসচিবের আসনটি যদিও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং নির্বাচনও হবে। এখন চলছে নারী এমপি নিয়ে কানাকানি। জাতীয় একাদশ নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি নিজেদেরকে আলাদা করে রেখেছিল। তারা সংসদে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পরে তাদের সেই অবস্থান থেকে ফিরে আসতে হয়। এখন কে হচ্ছেন দলের নারী এমপি? এ নিয়ে দেশব্যাপী চলছে হিসাবনিকাশ।
একটি মাত্র সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে বিএনপির নেত্রীদের মধ্যে প্রকাশ্যে কোনো তৎপরতা না থাকলেও পর্দার অন্তরালে চলছে নানামুখী দৌড়ঝাঁপ। বিএনপি নেত্রীদের মধ্যে অনেকেই গোপনে গোপনে লবিং-তদবির করছেন। যার যার বলয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করছেন দলের টিকিট নিয়ে সংসদে যেতে। এ দৌড়ে রয়েছেন অন্তত ডজনখানেক নারী নেত্রী।
বিএনপির নারী নেত্রীদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা আলোচনায় আছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পুত্রবধূ ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক নারী সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি এবং নিপুণ রায় চৌধুরী। বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ফাহিমা মুন্নী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান ও সাবেক সংসদ সদস্য আশিফা আশরাফী পাপিয়ার নামও রয়েছে আলোচনায়।
তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ এই দৌড়ে নেই বলে দাবি করেছেন। কিন্তু তাদের নাম বিএনপির কেন্দ্রে আলোচনায় আছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন বিএনপির ভাগ্যবান নারী এমপি বিষয়টি নির্ধারণ করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহাসচিবের মত নিয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই চূড়ান্ত।
জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে আগ্রহীরা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে সাংগঠনিক যোগ্যতা, রাজনৈতিক পটভূমি, পরিবারের অবদান ও নিজের ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে মনোনয়ন দাবি করছেন। রাজনৈতিক দক্ষতা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করা হলে মনোনয়ন পাবেন, এমন প্রত্যাশা করছেন বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী। দলের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষায় আছেন তারা।
গত সোমবার ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শরিক নেতাদের জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কারও নাম জানাননি তিনি। এর পর থেকে বিএনপির নারী নেত্রীরা নিশ্চিত হন যে, বিএনপি সংসদে নারী প্রতিনিধি পাঠাবে। ওই দিন থেকে তাদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যায়।
একাদশ নির্বাচনের আগে আলোচনা ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তাকে ঘিরেই বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি পরিচালিত হবে। কিন্তু সেটি আর হয়ে ওঠেনি। পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে আসতে পারেননি ডা. জোবাইদা। এখন জিয়াউর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হোক এটি চাচ্ছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ।
এ রকম বাস্তবতায় বিএনপির ভেতর চলছে নানা সমীকরণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিঁথি শেষ পর্যন্ত বিএনপির টিকিটে সংসদে গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। কারণ বিএনপির হাইকমান্ডকে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন অনেক বিকল্প মাথায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যেমনটি হয়েছে দলের ৫ এমপির শপথগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়।


