পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি আরবের রাজতন্ত্র-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছে ‘হাইড্রফ্লোরিক’ এসিড ও অন্যান্য কেমিক্যাল। হত্যার পর তার লাশ পুড়িয়ে ফেলা ও তথ্যপ্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতেই এসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় ‘হাইড্রফ্লোরিক’ এসিড ও অন্যান্য কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে। তুরস্কের এটর্নি জেনালেরেলের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
খবরে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় সৌদি কনস্যুলেটের পাশে কনসাল জেনারেলের বাস ভবনে তুর্কি তদন্ত দল ‘হাইড্রফ্লোরিক’ এসিড ও অন্যান্য কেমিক্যালের উপস্থিতি পেয়েছে।
খাশোগিকে হত্যার পর তার লাশ ভস্মীভূত করার জন্য এই কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তাই নিয়েই উত্তপ্ত ছিলো গোটা বিশ্ব। এদিকে এ খবর প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই কনসাল জেনারেলের বাসায় এসব কেমিক্যালের সন্ধানের খবর প্রকাশ করা হলো।
কনসাল জেনারেলের বাসায় যে কেমিক্যালের সন্ধান পাওয়া গেছে তা কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ আল-ওতাইবির কক্ষেই ছিল। তুর্কি তদন্তকারীরা তার রুমের ভিতের এর সন্ধান পেয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে তুরস্ক থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক এন্ডু সিমনস বলেন, খাশোগি হত্যার দুই সপ্তাহ পর কনসাল জেনারেলের বাসা তল্লাশি করেছিল তুর্কি তদন্তকারীরা। তখনই এসব কেমিক্যালের সন্ধান পেয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২ অক্টোবর সাংবাদিক জামাল খাশোগি আঙ্কারস্থ সৌদি দূতাবাসে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। প্রথম দিকে বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরে চাপে পড়ে বিষয়টি স্বীকার করে তারা। এরপর থেকেই মূলত ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে। এ হত্যায় তুরস্ক শুরুতেই সৌদিকে দায়ী করে সমালোচনা করেছিল।
জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করলেও এখনো পর্যন্ত তার লাশের কোনো সন্ধান দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে তার লাশ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
সৌদি সরকার খাশোগিকে হত্যা করেছে বলে শুরুতেই মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তিনি বলেছিলেন, রাজতন্ত্র-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করার জন্য সরাসরি সৌদি সরকার দায়ী। এরদোগান মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে বলেন, খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ এসেছে সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, যে ১৮ ব্যক্তিকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে তারাই খাশোগিকে হত্যা করেছে। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি, সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি লিখেন, অনেক উঁচু পর্যায়ের কেউ এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। সেই মূল হোতা বা হোতাদের” নাম প্রকাশ করতে হবে।


