পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। ভোট দেয়ার গোপন কক্ষ ছাড়া সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিনেট কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলেও ফুটেজ সংরক্ষিত থাকবে। প্রতি কেন্দ্রে দুইটি করে মেডিক্যাল টিম থাকবে। ১৪ অক্টোবর থেকে পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভোটের দিনও কেবল পরিচয়পত্র নিয়েই ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যাবে।
সভায় চবি ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব দাবি অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছি। নির্বাচনের দিন চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। তবে আমাদের আসল শক্তি শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রোভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, অধ্যাপক মো: আনোয়ার হোসেন, নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, আমরা সব প্রার্থীর ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করেছি। এটি আমাদের মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। নির্বাচনের দিন শিক্ষার্থীদের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শাটল ট্রেনের সূচি বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে থাকবে বড় এলইডি স্ক্রিন, যেখানে সরাসরি ভোট পরিস্থিতি দেখা যাবে। ভোটগ্রহণ থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও ডিসপ্লের মাধ্যমে সবার সামনে প্রদর্শন করা হবে, যাতে সবাই দেখতে পারেন কোথায় কী হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও সবকিছু রেকর্ড করা হবে। কোনো কারণে যদি কোনো ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রেও রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। যাতে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে আমরা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারি।
তিনি জানান, প্রতিটি ব্যালট পেপারে আলাদা নিরাপত্তা কোড থাকবে। এ কোডের মাধ্যমে আমরা যাচাই করতে পারব, ব্যালটটি আসল না নকল। কোনো বহির্ভূত কাগজ যদি ওএমআর মেশিনে আসে, আমরা সাথে সাথে সেটি শনাক্ত করতে পারব। ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও ব্যালট নম্বর থাকবে। পাশে বৃত্ত থাকবে।
ভোটকক্ষে ব্যালট বাক্স পৌঁছানোর পর প্রথমেই উপস্থিত সবার সামনে বাক্সটি খুলে দেখানো হবে। এর ভেতরে কিছু আছে কি না তা যাচাই করে সেটি তালাবদ্ধ করে সিল করা হবে। এর পর ভোটাররা এসে ভোট প্রদান করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে যতজন ভোটার আছেন, ঠিক তত সংখ্যক ব্যালটই পাঠানো হবে। এর বেশি একটি ব্যালটও পাঠানো হবে না। ভোটগ্রহণ শেষে যদি কোনো ব্যালট অব্যবহৃত থাকে, সেগুলো প্যাকেট করে সিল করে সাথে সাথে ফেরত নিয়ে আসা হবে বলেও তিনি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ভোটের দিন বিশ্ব¦বিদ্যালয়ের ১৪টি প্রবেশপথের মধ্যে সাতটি বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে ২৪টি পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা বাইরের নিরাপত্তা বিষয়টি দেখব।
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচটি মোবাইল কোর্ট বসানো হবে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কেউ বা যাদের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র কিংবা কমিশনের অনুমোদিত কার্ড নেই, তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না; অর্থাৎ নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী, পোলিং এজেন্ট, ভোটার ও সাংবাদিক ছাড়া অন্য কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও সূত্র জানায়।


