পাথেয় রিপোর্ট : আসন্ন নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জীবা আমিনা খানের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে জেলা শহরের বিশ্ব রোডে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে চেহারা মঞ্জিলে পার্ক করে রাখা জীবার গাড়িতে এ হামলা-ভাঙচুর হয়। এ সময় জীবা বাড়িটির ভেতরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শহরের বিশ্ব রোডের চেহেরা মঞ্জিলে সভা চলাকালে প্রথম দফায় হামলা হয়। এসময় প্রার্থী জীবা আমিনা খানের ২টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে ঝালকাঠি থানার ওসি শোনীত কুমার গায়েন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখান থেকে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জীবা আমিনা খান ভারপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আসেন। সেখানে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ভাঙচুরকৃত গাড়ি দেখিয়ে হামলার বিষয়টি জানিয়ে চলে যাবার পথে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এসময় গাড়ি চালকদের মারধর করে ভিতরে থাকা নির্বাচনী পোস্টার, লিফলেট ফেলে দেয়া হয়।
এই ঘটনার নিন্দা ও বিচার দাবী করে জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর আমাদের ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী জীবা আমিনা খান এলাকায় আসেন। নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে এখানে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় মিলিত হন। বৃহস্পতিবার থেকে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে চেয়ে ছিলাম। এসময় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলা করে আমাদের প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তারা মোটরসাইকেলে এসে রড, হকিস্টিক, ইট দিয়ে হামলা ভাঙচুর চালায়।
জীবা আমিনা সাংবাদিকদের জানান, বহরের পেছনের গাড়িতে থাকা কর্মীদের মারধর করা হলে বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জীবা আমিনা খান বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা উচিত। কিন্তু এভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোকে রাজনীতি বলা যায় না। আমরা এখানে নিরিবিলি আমাদের নির্বাচনী সভা পরিচালনা করছিলাম। আমাদের এই নির্বাচনী কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছি না। হয়রানী করছে।
এ সময় তার সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয় জানতে চাইলে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গাইন সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এ ধরনের কোনো ঘটনা জানেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। তাদের দাবি, বিএনপি কোন্দল করে নিজেরাই গাড়ি ভাঙচুরের পর অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জেলা ভারপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। এক্ষেত্রে সবার নির্বাচনী আচরণ ও বিধিমালা মেনে স্বস্ব কার্যক্রম চালাবে। আজকের এই ঘটনা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করবো।


