পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তাবলিগ-জামাতের বিভক্তি মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ব ইজতেমা করার জন্য ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অচিরেই ভারতের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসায় যাচ্ছেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ১৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে ২২ জানুয়ারি রোববারের মধ্যে যে কোনও দিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ভারতের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
১০ সদস্যের এ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ধর্মসচিব মুহাম্মদ আনিছুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড স্পোশাল অ্যাফেয়ার্স) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, যাত্রাবাড়ী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান, তাবলিগ-জামাত বাংলাদেশের আহলে শূরা সদস্য মুহাম্মদ রবিউল হক, সৈয়দ ওয়াসিফ ইসলাম, কাকরাইল মসজিদের মুকিম আশরাফ আলী, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়ার (ঢাকা) প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক এবং ইকরা বাংলাদেশ-এর প্রধান সমন্বয়ক ও প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।
একটা সময় তাবলীগের অভ্যন্তরিন এ দ্বন্দ্ব তাদের মধ্যেই বিরাজমান ছিল। মসজিদে মসজিদে দুই পক্ষের মধ্যে বিভাজন দেখা দিলে তাদের মধ্যে ঐক্যের লক্ষ্যে তাবলিগের চলমান সংকট দূর করতে আলেম ও সাধারণ শিক্ষিতদের মধ্যকার বিভেদ দূর করার প্রত্যাশায় বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ যশোর চাঁচড়ার মোড় থেকে সুনামগঞ্জ পর্যান্ত চার দিনব্যাপী পথযাত্রার ঘোষণা দেন।
তখন তিনি বলেন, এই পথযাত্রায় তাবলিগ ইস্যু ছাড়াও মাদক ও দুর্নীতির সয়লাব এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তিনি প্রচার চালাবেন। যশোর চাঁচড়ার মোড় থেকে সুনামগঞ্জ পর্যেন্ত চার দিনব্যাপী পথযাত্রাও তিনি বাস্তবায়ন করেন। চারদিনের সারা পথে অসংখ্য আলেম উলামা এতে যুক্ত হন। এতে তেরটি সমাবেশ তিনি করেন। দ্বন্দ্ব দূর করে ভাই ভাইয়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাবলীগ করার আহ্বান জানান।
তাবলীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিলে এর আগে ইজতেমা স্থগিত প্রসঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে তাবলিগের জামাতের মধ্যে চরম বিরোধ রয়েছে। এসব বিবেচনায় তাবলিগের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। একটি প্রতিনিধি দল ভারত যাবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করবেন। নির্বাচন শেষ হলে দুপক্ষ বসেই নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পারে।
প্রসঙ্গত, দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদ থেকে শতবছর আগে হজরত ইলিয়াছ রহ. তাবলিগ জামাতের মেহনত, প্রচার ও প্রসার শুরু হয়। তাবলিগের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তাঁর উত্তরসূরিরাই এ দাওয়াতি কাজের নেতৃত্ব ও আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। বিগত বছরগুলোতে টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব-ইজতেমায় নিজামুদ্দিন মারকাজের উত্তরসূরি মাওলানা ইউসুফ রহ. থেকে শুরু করে মাওলানা জুবায়েরুল হাসান রহ. অংশগ্রহণ, মেহনত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর আপত্তির মুখেও শেষ পর্যন্ত নিজামুদ্দিন মারকাযের উত্তরসূরি মাওলানা সাদ স্কান্ধলভী নসিহত ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেছেন। তাবলিগ জামাতের অন্যতম শীর্ষ মুরুব্বি, দিল্লি নিজামুদ্দিনের জিম্মাদার মাওলানা সাদের কিছু বক্তব্য ও একক নেতৃত্বের প্রশ্নে বেশ কয়েক বছর যাবৎ দেওবন্দসহ বিশ্বের অনেক আলেম-ওলামা ও তাবলিগের মুরুব্বিদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সবসময় বলে আসছেন, তিনি তাবলীগের ইস্যুতে মাওলানা সাদের ইস্যুতে দারুল উলূম দেওবন্দের বক্তব্যকেই অগ্রাধিকার দেবেন। দেওবন্দ যতটুকু বলেছে ততটুকুই তিনি বলেন। এর বেশি বলতে নারাজ। মাওলানা সাদ ইস্যুতে বাংলাদেশে বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দেওবন্দকেই ইশারা করেন।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আলেমগণ মাওলানা সাদ কান্ধলবীর বিপক্ষে থাকলেও সর্বশেষ তাবলীগের দ্বন্দ্ব মেটাতে দারুল উলূম দেওবন্দই যাচ্ছেন শীর্ষ আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল।
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ, কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ধর্মমন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপণ


