ঐতিহ্য । ওয়ালীউল্লাহ মাসুদ
দেওবন্দ আন্দোলন ও দেওবন্দিয়্যাত
প্রথম কিস্তি ●
মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম-ইসলাম। ইসলাম ব্যতিরেকে অন্য সকল ধর্ম আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অন্যত্র ইরশাদ করেন- আলা লাহুল খালক্ ওয়াল আমর। সৃজন ও নির্দেশ একমাত্র আল্লাহ তায়ালারই। তিনিই আমাদেরকে অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। তিনি অনুগ্রহ করে আমাদেরকে দিয়েছেন জীবন পরিচালনার পথ-দ্বীন। ওয়াহী-এলাহীর শুদ্ধতম জ্ঞানের আলোকে হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম দেখিয়ে গেছেন মানবজীবনের পথ চলার পদ্ধতি। আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর বাতলে দেওয়া পদ্ধতিই মানবজীবনের চরম সাফল্য ও শুভ পরিণামের জীয়নকাঠী। এ ক্ষেত্রে সন্দেহের কোন লেশ মাত্র নেই। এই আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালামের সুমহান ধারার সর্বশেষ হলেন, সায়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন পেয়ারে নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি আমাদেরকে দিয়ে গেছেন দ্বীনে শরীয়ত। তিনি ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের জন্য দু’টি জিনিস রেখে গেলাম। যদি এ দুটিকে তোমরা আঁকড়ে ধর তাহলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো কুরআন অপরটি হল সুন্নাহ।
সুন্নাহ হল জীবন চলার পদ্ধতি। আর এ পদ্ধতি কি হবে তা-ও রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদীসে বলে দিয়েছেন। ইরশাদ করেছেন- মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবিহী- যে পথে আমি আছি এবং আমার সাহাবী।
কিন্তু যুগে যুগে ইসলামকে বিকৃত সাধন করতে শয়তানিয়্যাত ও বাতিল শক্তি ষড়যন্ত্রে মেতে থাকত এবং এখনো আছে। কিন্তু রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুহাদা সালেহীন ও সিদ্দীকিনের যে জামাত গড়ে তুলে ছিলেন, তারা মানুষ ও মানবতার প্রতি একান্ত দরদ নিয়ে নাছেহুন আমিন বা পরমকল্যাণকামিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সব কষ্ট ক্লেশকে আলিঙ্গন করে সত্য উদ্ভাসের এই পথে ছিলেন অটল অবিচল। তাদের পথ ধরেই তাবেইন তাবেতাবেইন, আয়্যিম্মা ও মুজাদ্দিদীন। যুগে যুগে তাদের আলোকেই গড়ে উঠেছেন হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ, ইমাম আযম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিই, ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল, ইমাম গাযালী, হযরত আব্দুল কাদির জিলানী, হযরত আহমদ কবীর রিফাই, শায়খ শিহাবউদ্দিন সোহরাওয়ার্দী, হযরত বাহাউদ্দীন নকশবন্দী, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহ.সহ আরো বহু মর্দে মুমিন। তারা সব ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করে ইসলামকে তার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত করে রেখেছেন।
ভারতীয় উপমহাদেশে হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগেই ইসলামের সুমহান বানী পৌঁছে গিয়েছিল। ৯৩ হিজরীতে ইসলামের বীর সন্তান মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আসসাকাফী সিন্ধু থেকে মুলতান অবধি সমগ্র এলাকায় মুসলিম অধিকার আনয়ন করেন। কিন্তু পুরো ভারতবর্ষ বিজয়ের কৃতিত্ব ছিল দুঃসাহসী ইসলামের বীর সৈনিক সুলতান মাহমুদ গজনবী (৪৪১ হিজরী) আর স্থায়ী ভাবে ইসলামী সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহাম্মদ ঘোরী (৬০২ হিজরী) আর এখানে আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও ঈমানী কাজের মূল স্থপতি হলেন হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহ. (জন্ম ৬২৭ হিজরী)।
খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতীর মুজাহাদাস্নাত এই উপমহাদেশের পরাজিত ব্রাহ্মণবাদ চক্র বাদশাহ আকবরের ছত্রছায়ায় হিন্দুতন্ত্রের মাঝে লীন করে দিতে চেয়েছিল এদেশের ইসলাম ও মুসলমানদেরকে। তখন আল্লাহর ওপর অসীম ভরসা নিয়ে ঈমানী চেতনায় দৃপ্ত হয়ে এগিয়ে এলেন হযরত শায়খ আহমদ সারহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফেসানী। ব্যাপক ভিত্তিতে গড়ে তুলেন তাজদীদ ও সংস্কার আন্দোলন।
তাজদীদ ও সংস্কার আন্দোলন কি এবং কাকে বলে ? তাজদীদ অর্থ হল নবায়ন করা, কোন বস্তু হতে অবাঞ্চিত অংশের বিয়োজন অনিবার্য অংশের সংযোজন ও পরিমার্জন করে আগের ন্যায় গড়ে তোলার নাম তাজদীদ। সংস্কার শব্দটিও অনেকটা সমার্থবোধক। যার মূল অর্থ হল-পতিত অবস্থা থেকে উদ্ধার করা, শোধন করা, ময়লা-আবর্জনা থেকে পরিষ্কার করা, আন্দোলন অর্থ হল- সঞ্চালন, দোলন, আলোড়ন, আবর্তন। সুতরাং সংস্কার আন্দোলন অর্থ হল কোন বস্তুকে অবাঞ্চিত ময়লা ও আবর্জনা থেকে উদ্ধার করার জন্য নাড়াচাড়া করা, প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
শরীয়তের পরিভাষায় তাজদীদ ও সংস্কার আন্দোলন অর্থ হচ্ছে, দ্বীনকে পতিত অবস্থা থেকে উদ্ধারের কার্যকরী চেষ্টা করা, অবাঞ্চিতভাবে স্থাপিত কুফর, শিরক, বিদআত ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবায়ে কিরাম যে অবয়ব, কাঠামো ও রূপরেখার ওপর প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছিলেন অবিকল সেই কাঠামো ও রূপরেখায় পুনরায় পেশ করা এবং মুসলিম সমাজে তা প্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। হাদীসের ভাষায় এই চেষ্টা ও মেহনতকে এহইয়াযে সুন্নাত ও এহইয়াযে দ্বীন নামে অভিহিত করা হয়েছে। যুগে যুগে মুসলিম সমাজের যে সব মনীষী এই দূরূহ কাজটি সম্পাদন করেছেন তাদেরকে মুজাদ্দিদ বলে। আর তাদের সংস্কার আন্দোলনকে বলা হয় তাজদীদ ও সংস্কার আন্দোলন।
ঈমান ও ইখলাসের আলোয়ে উদ্ভাসিত হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানীর তাজদীদ ও সংস্কার আন্দোলনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ব্রাম্মবাদীদের সব কূটচাল।
হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানীর পর বিশ্ব পরিস্থিতির মাঝে সূচীত হয় আমূল পরিবর্তন। মুসলিম সমাজ তখন প্রধানত দু’টি সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিদআত ও কুসংস্কারের সয়লাব এবং বস্তুবাদী চিন্তা ও দর্শনের ক্রমাগত আক্রমণ। ঐতিহাসিকদের মতে সম্রাট আলমগীরের ইন্তেকালের পর উপমহাদেশের ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতি দারুণভাবে পর্যুদস্ত হয়। শি’আদের বাড়াবাড়ি, বিদআতিদের অতিভক্তি, মাজার পুঁজারীদের স্বার্থপরতা প্রভৃতি ইসলামের মৌলদর্শনকে বিকলাঙ্গ করে দেয়। সর্বত্র শিরক, বিদআত, রুসুম ও রেওয়াজ, উদাসীনতা ও আদর্শহীনতা, পারস্পারিক দূরত্ব, কলহ, সংঘাত সমাজ কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়।
অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশের ধন-রত্নের লোভ অনেককাল পূর্ব থেকেই ইউরোপকে লালায়িত করে আসছিল, তাই ইউরোপীয় বণিকগণ উপমহাদেশের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগের পথ অন্বেষণ করতে ছিল। ১৪৯৪ সালে ভাস্ক-দাগামার মাধ্যমে এ পথ খোলে যায়। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী গঠন করে। রেনেসাঁ উত্তর তাগুতি শক্তি বস্তুবাদী দর্শনের ওপর ভর করে উন্নয়ন, প্রগতি ও প্রযুক্তির মোহময়তার আবরণে তারা তাদের সাম্রাজ্যবাদী দূরাকাঙ্ক্ষা পূরণে মত্ত হয়ে ওঠে। আরেক দিকে নাস্তিক্যবাদী মানবতাবিরোধী কমিউনিজমের উত্থান পর্ব শুরু হয়।
এ সময়ে ইসলামের বিভিন্ন প্রকার তাহরিফ, অপব্যাখ্যা, শিরক, বিদআত, বস্তুবাদ, বিলাসিতা প্রভৃতির পক্ষ হতে আক্রমণে মনে হয়ে যেন ইসলাম বুঝি তার অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই করেছে। কিন্তু সব বাঁধা অতিক্রম করে ইসলাম নিজের অস্তিত্ব অটুট রেখেছে। এটা নিঃসন্দেহে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কুদরত। ইরশাদ হয়েছে, আমিই এই ওয়াহী প্রেরণ করেছি আর আমিই এর সংরক্ষণের একমাত্র জিম্মাদার। স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জিম্মাদার হলেও তিনিই কারো না কারো দ্বারা তা পূরণ করে থাকেন। এই নাজুক পরিস্থিতিতে তীব্র প্রয়োজন দেখা দেয় একজন আদর্শ সংস্কারের, একজন শ্রেষ্ঠ চিন্তা নায়কের। যিনি সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামের নির্মল রূপরেখা পুনরায় ফুটিয়ে তুলবেন। যিনি বস্তুবাদের সব ধুম্রজালের নাগপাশ ছিন্ন করে প্রমাণ করবেন ইসলামের চিরন্তন সত্যতা। যিনি এগুলো বাস্তবায়নে গ্রহণ করবেন বাস্তব সম্মত কার্যকর কর্মসূচী।
সর্বোপরি যে কর্মসূচী সমকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, একাডেমিক সকল প্রকারের উদ্যোগ গ্রহণ করে বাতিলের মোকাবিলা করবে, প্রয়োজনে সর্বস্ব বিলিয়ে দিবে ইসলামের জন্য এবং শাহাদাতের অমিয় সুধা পানে এগিয়ে যাবে। হিজরী দ্বাদশ শতকের এই যুগ সন্ধিক্ষণে যে সংস্কারক মহামনীষীর আবির্ভাব ঘটেছিল তিনি হলেন- হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী। তিনি সমাজ সংস্কারের জন্য যে কার্যকর কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন-ঐ কর্মসূচীই কালের পরিক্রমায় দেওবন্দ আন্দোলন নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
এটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ দ্বীন, মুকাম্মাল নিযামে হায়াত বা জীবন বিধান। কালের পরিক্রমায় এটা হ্রাস-বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই, এটা যেমন চিরন্তর সত্য, কিন্তু যুগে যুগে বিদআত-কুসংস্কার এর কবলে পড়ে ইসলামের প্রকৃত রূপ ক্ষুন্ন হয়ে পড়ে, দেখা দেয় নানা বিভ্রান্তি। কুরআন হাদীসের অপব্যাখ্যা করে মুনাফিকুনরা নিজেদের হীন স্বার্থ সিদ্ধির পাঁয়তারা করে। তখন ইসলামকে তার প্রকৃতরূপে ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই আল্লাহ যুগে যুগে কিছু মহামনীষীকে প্রেরণ করেন। যারা বুবকরী স্লোগান, আইয়ান কুছুদ্দীন ওয়া আনা হাই- আমি বেঁচে থাকব আর দ্বীনের সামান্য ক্ষতি হবে- হযরত আবু বকর (রা.) এই স্লোগানের উপরে অটল থেকে মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবিহি এর ওপর দ্বীনকে পরিচালিত করেন।
প্রখ্যাত ইসলামী দার্শনিক, ঐতিহাসিক লেখক ও বুযুর্গ আলিম সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. বলেন, হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ. কর্তৃক সূচিত সংস্কার ও আত্মশুদ্ধি আন্দোলনের পরিধি অনেক ব্যাপক। সংক্ষেপে তার কর্মসূচীগুলো ছিল নিম্নরূপ-
০১। আকীদা তথা ধর্মীয় বিশ্বাসের সংশোধন এবং কুরআন-হাদীসের প্রতি মানুষকে আহ্বান।
০২। হাদীস ও সুন্নাতের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ও তদানুযায়ী আমল।
০৩। যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যার আলোকে ইসলামী শরীয়তকে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শনরূপে উপস্থাপন।
০৪। খেলাফতে রাশেদা সম্পর্কে যাবতীয় বিভ্রান্তির নিরসন এবং ইসলামে খেলাফত ব্যবস্থার আবশ্যকতার প্রমাণ।
০৫। সমকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্যোগের কবল থেকে মুসলিম শাসনকে রক্ষা করে জিহাদী ভূমিকা গ্রহণ।
০৬। সমাজের সবশ্রেণির মানুষকে হেদায়াতের প্রতি আহ্বান।
০৭। তারবিয়াত বা প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে ভবিষ্যত আন্দোলনের যোগ্য ব্যক্তি গঠন।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ. এই ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের সার্বিক রূপরেখা ও তাগুতি শক্তি রুখে দেওয়ার নতুন কর্মসূচীর ফলে গড়ে উঠল হযরত শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলবী রা., হযরত শাহ ইসমাইল শহীদ, হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ র. প্রমুখের নেতৃত্বে এক বিপ্লবী জামাত, রক্তস্নাত বালাকোটের প্রান্তরে চিরভাস্বর হয়ে আছে তাদের নাম। ১৮৩১ সালে বালাকোট রণক্ষেত্রে হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ ও অন্যান্য বহু মুজাহিদের মর্মান্তির শাহাদাতের পর গোটা ভারতবর্ষে সর্বত্র মুজাহিদ কর্মীদের মধ্যে জিহাদী চেতনা আরো প্রবল আকারে ধারণ করে।
পরবর্তীতে এই ধারার মহান পুরুষ সায়্যিদুত তায়িফা হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী (র.) নেতৃত্ব দেন ১৮৫৭ সালে শামেলীর ময়দানে এক যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। যার প্রধান সেনাপতি ছিলেন কাসেমুল উলূম ওয়াল খায়রাত হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত কাসেম নানুতবী রহ.। এই যুদ্ধে হযরত হাফেজ যামেন শহীদ শাহাদাত বরণ করেন। উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনই হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহ. এর আন্দোলনকেই সিপাহী বিদ্রোহ নামে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। আন্দোলনের রূপ ও চরিত্রকে পরিবর্তন করার হীন উদ্দেশ্যে আলিম জনতার এই আন্দোলনের নাম ইংরেজ বেনিয়ারা সিপাহী বিপ্লব হিসেবে নামকরণ করেছে।
লেখক : দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা


