মাসউদুল কাদির : সুস্থ অবস্থায় আমাদের হৃদয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম যদি বাকিটা জীবন কাটাতে পারতেন তাহলে বিশ্ব আর কি কি পেতে পারতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানবতার জয়গান গাওয়া এই কবিকে আজকের দিনে পরম ভালোবাসায় স্মরণ করতে চাই। আল্লাহ তার কবরকে নূর দিয়ে পরিপূরর্ণ করে দিন। আমীন।
আদতে কাজী নজরুল ইসলাম মারা গেলেও তিনি বেঁচে আছেন বাঙালির প্রতিটি মণিকোটায়। হৃদয়ের অলিন্দে। প্রতিটি পাঠশালায়। গ্রামেগঞ্জে, শহরে বন্দরে সবখানে সমানভাবে সমাদৃত।
কাজী নজরুল ইসলাম থাকবেনও আজীবন। কেবল বাংলাভাষার ছন্দের ভেতর তিনি থেমে আছেন এমন নয়। কেবল ঈদের গানই বিশ্বের বিশটির বেশী ভাষায় অনূদীত হয়ে বাজতে থাকে। ঈদের নজরুলের গান না হলে যেন ঈদই বাকি থাকে। সব বিরোধিতা সত্ত্বেও নজরুল ইসলাম সবার উপরে অবস্থান করছেন। করবেনও। লেখক কবিদের অনেক কিছু শেখার আছে তার কাছ থেকে। তিনি কখনো মাথা নোয়াবার মতো কেউ ছিলেন না। দ্রোহের আগুন জ্বেলে নিজেকে প্রসারিত করেছেন গোলার বারুদের মতো।
প্রেম আর দ্রোহ-বিদ্রোহ যেন সমানতালে চলেছে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জীবনে। মহান আল্লাহর অপার দান ছাড়া কাজী নজরুল ইসলাম আর কিছুই না। তিনি অকাতরে বিলিয়ে গেছেন ভালোবাসা। গান কবিতায় তাই উঠে এসেছে। এই ভালোবাসা পুঁজি করে চলছে আমাদের জীবন।
লিখেছেন, ‘মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না/অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ, ভূমে রণিবে না/বিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত’- এ এক দৃপ্ত সাহসী উচ্চারণ।
আজ মঙ্গলবার, ১২ ভাদ্র। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
স্মরণীয় বরণীয় এই কবির প্রশান্তি যেন আমাদেরই প্রশান্তি। তবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দুইকথা বলতে হবে- এরপক্ষে আমি নই। ঠাকুরের ভালো পাঠযোগ্য বিশ্বকাঁপানো লেখনি-কবিতা সমগ্র বাঙালি জাতিরই সম্পদ। রাজনৈতিক ইস্যু টেনে এনে সুন্দরটুকুর বিরোধিতা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালোবাসি, ভালোবেসো-এই আদর্শ হোক না আমাদের। ভালোটুকুর চর্চায় আরও দুই পা এগিয়ে আমাদের কোনোই তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। একজন গ্র্যাট নজরুলের জায়গা পূরণ হয়নি, হবে না। সাধনার পথ হোক আরও মৃসণ। সুন্দরের সঙ্গেই হোক আমাদের বসবাস।
প্রসঙ্গত, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।
লেখক : সাংবাদিক ও ছড়াশিল্পী


