পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের কাছে ভবিষ্যতের আমানত স্বরূপ, তাদেরকে গড়ে যাওয়া এবং তাদেরকে মূল্যবান করে তোলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল, আওলাদে রাসুল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আস’আদ মাদানী।
তিনি বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে দুটি জিনিষ দরকার। এক. তালিম ও দুই. তরবিয়ত। তালিম ও তরবিয়তের সমন্বয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপে গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে হবে। সন্তানদেরকে সম্পদ ও বিত্তের দীক্ষা নয়; ভালো মানুষ হওয়ার দীক্ষা দিতে হবে। সেভাবে শৈশব থেকেই তাদের তরবিয়তে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভালো মানুষের পরিচয় তার বাড়ি গাড়ি আর পোষাকে নয়, পরিচয় তার কথাবার্তা কর্মকান্ড আর আচার-আচরনে। সন্তানদের প্রতি এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। যে জাতির অধিকাংশ মানুষ নিজেদের কর্তব্য পালনে সচেষ্ট থাকে সে জাতি ভালো জাতি হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।
শনিবার (০৬ মার্চ) গুজরাতের আঞ্জারে জমিয়তে উলামা হিন্দের নির্মিত ‘জমিয়ত চিলড্রেন ভিলেজে’ শেখ মরিয়মের বিবাহ পড়াতে এসে সন্তানদের তালিম তরবিয়ত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব বলেন। ২০০২ সালে গুজরাতে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর দাঙ্গায় ১৪ ঘন্টার নবজাতক থাকাকালীন এই শেখ মরিয়মকে উদ্ধার করে জমিয়তে উলামা হিন্দ।
প্রসঙ্গত, গুজরাতে ২০০২ এর দাঙ্গায় হাজার হাজার শিশু বাবা মা হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েছিল। সেসময় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় ভারতের মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। বাবা মা বিচ্ছিন্ন এতিম এই শিশুদের জন্য নবীন চন্দ্র ভাটোরার দেয়া ১৩ একর জমিতে ‘জমিয়ত চিলড্রেন ভিলেজ’ স্থাপন করে জমিয়তে হিন্দ। সেসব শিশুদের সার্বিক তালিম তরবিয়ত প্রদানে মকতব-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজও প্রতিষ্ঠা করেছে ভারতের এই সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠনটি।
এছাড়াও জমিয়ত চিলড্রেন ভিলেজে প্রতিপালিত হয়ে ওঠা মেয়েদেরকে সার্বিক শিক্ষা দীক্ষা দানের পরে বিয়ে প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে নিজ পায়ে দাঁড়ানো এবং সুস্থ-সুন্দর জীবন উপহার দিয়ে আসছে ভারতের এই সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দ।
/এএ


