পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাকিস্তানের সাথে একটি ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন’ গঠন করা হবে। একই সাথে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনকে সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে আগের মতো পাকিস্তানে এক কোটি কেজি চা শুল্ক ও কোটামুক্ত রফতানির সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সাথে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে বিষয়গুলো তুলে ধরেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা উভয়পক্ষ ব্যাপক আলোচনা করেছি। ব্যবসায়িক স্বার্থে আমাদের মধ্যে যে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন রয়েছে, সেটিকে আমরা আবার নতুন করে চালু করার বিষয়ে একমত হয়েছি। আমরা নতুন করে একটি ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট কমিশন (বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন) গঠনের বিষয়েও একমত হয়েছি। এ ছাড়া খাদ্য ও কৃষি উন্নয়নে যে কার্যক্রম নিতে পারি বিশেষ করে শিল্পখাতের মধ্যবর্তী পণ্য আমরা যদি যৌথভাবে উৎপাদন করতে পারি তা নিয়েও আলোচনা করেছি। ফল আমদানি ও রফতানি দুটো নিয়েই কথা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে আনারস রফতানি বিষয়ে কথা হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তান আমাদের একটি পণ্য হাইড্রোজেন পারওক্সাইডের ওপর এন্টি ডাম্পিং ট্যাক্স বসিয়েছে সেটির বিষয়ে আামি পাকিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছি। যাতে তারা এটি প্রত্যাহার করে নেয়। ব্যাপারে তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। আমরা মিউচুয়াল অ্যাকপেটেন্স বিষয়ে কথা বলেছি। এ ছাড়া আমরা চামড়া ও চিনি শিল্প নিয়েও আলোচনা করেছি। কারণ এই দুই শিল্পে পাকিস্তান বেশ এগিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা তাদের সহায়তা চেয়েছি। পাকিস্তান এক সময় আমাদের এক কোটি কেজি চা শুল্ক ও কোটামুক্ত রফতানি করার সুযোগ দিত। আমরা পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীকে এই সুযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য অনুরোধ করেছি।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি মন্ত্রী এ দেশে আরো দুই-তিন দিন রয়েছেন। এরপর তাদের সাথে কী কী সমঝোতা স্মারক সই হবে তা বলা সম্ভব হবে।
বাণিজ্য সচিব সাংবাদিকদের বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ্য আলোচনা হয়েছে। আমরা সর্বাগ্রে দেশের স্বার্থই প্রাধান্য দিয়েছি। আমরা জানেন গত ১৬ বছরের দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক তেমন ছিলই না বললেই চলে। এখন আমরা পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য সহজীকরণে কোনো বাধা দেখি না। আপনারা জানেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা খাদ্য, পাথর আমদানি করি। এখন এসব পণ্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা সম্ভব হলে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। উভয়ের স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে যদি পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য বাড়ানো যায় সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ধরনের মনোভাবই আমাদের উপদেষ্টা পাকিস্তানের মন্ত্রীকে দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে কী কী পণ্য পাকিস্তানে রফতানি করা যায় সে বিষয়ে আমরা সে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীকে একটি ধারণা দিয়েছি। তারা আমাদের একটি ধারণা দিয়েছেন। পাকিস্তান থেকে আমরা বেশি আমদানি করি, আর কম রফতানি করি। এই বাণিজ্য ব্যবধান যদি কমানো যায় সেটা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে।
পাকিস্তানের সাথে কেন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন করা হচ্ছে- এমন প্রশ্ন বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ প্রতি বছর আমরা ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করি। এর মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি করি খাদ্য পণ্য। এ ছাড়া মধ্যবর্তী পণ্য ও আরো কিছু পণ্য আমদানি করে থাকি। এখন আমরা দেখব বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে প্রতিযোগিতা মূল্যে কিভাবে এই সব পণ্য আমদানি করা যায় তা খতিয়ে দেখার জন্যই এই ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠন করা হবে।


