বাজারে ঢুকছে বিষাক্ত খাওয়ার লবণ

বাজারে ঢুকছে বিষাক্ত খাওয়ার লবণ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ● বাংলাদেশের বাজারে ঢুকছে বিষাক্ত খাবার লবণ। চীন থেকে আমদানিকৃত এসব রাসায়নিক দ্রব্য মূলত শিল্পের কাঁচামাল সোডিয়াম সালফেট ঘোষণা দিয়ে আনা হলেও কারসাজি করে খাবার লবণ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় থাকা এ ধরনের ২ হাজার টন বিষাক্ত খাবার লবণ আটক করেছে।

আমদানি নীতি আদেশ-২০১৫-২০১৮ অনুযায়ী, সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি নিষিদ্ধ। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন যাবৎ সোডিয়াম সালফেট ঘোষণা দিয়ে সোডিয়াম সালফেটের সাথে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি ও বাজারজাত করে আসছে।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের মেসার্স আজমির ট্রেডিং ও মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজসহ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নিকট অতীতে একইভাবে প্রায় ৩ হাজার টন ভেজাল সোডিয়াম ক্লোরাইড চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস করেছে এবং সেগুলো বাজারজাত করেছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের একজন সিনিয়র চিকিৎসক জানান, সোডিয়াম সালফেট মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। এটি মূলত ডিটারজেন্ট তৈরিতে এবং ডাইং এজেন্ট হিসেবে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহূত হয়। এটি শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। নারী ও শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত ২ হাজার টন সোডিয়াম ক্লোরাইডের চালানটি এসেছে চীন থেকে। শুল্ক ও করসহ এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি ২০ লাখ টাকা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আজমির ট্রেডিং কর্পোরেশন এবং মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজ। আজমির ট্রেডিং-এর পক্ষে সিএন্ডএফ এজেন্ট মানিক ব্রাদার্স চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২১ মে বিল অব এন্ট্রি এবং ১১ জুন বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে তাদের পণ্য খালাসের চেষ্টা করে। একইভাবে আশা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে রূপালী ট্রেডার্স ১৫ জুন বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে পণ্য খালাসের চেষ্টা করে।

চট্টগ্রাম শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক তারেক মাহমুদ জানান, গত ২০ জুন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ চালানগুলো সাময়িকভাবে আটক করে। পরে কাস্টম হাউজের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা হলে প্রাথমিকভাবে এতে সোডিয়াম ক্লোরাইডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় নমুনা পাঠানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে। ঢাবির ফলিত রসায়ন বিভাগের দেওয়া প্রতিবেদন পেয়েই চালানটি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোডিয়াম সালফেট ঘোষণায় আমদানি করা এসব চালানে সালফেটের অস্বিত্ব রয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫ ভাগ, আর আর্দ্রতার উপস্থিতি রয়েছে ১ ভাগ। বাকি ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড। এর মানে হচ্ছে এগুলো মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড এর চালান, যার সঙ্গে অল্প পরিমাণে সোডিয়াম সালফেটের মিশ্রণ রয়েছে।

আমদানিকাররা ক্লিনিং এজেন্ট ঘোষণা দিয়ে আমদানি দলিলে সোডিয়াম সালফেট উল্লেখ করলেও রাসায়নিক পরীক্ষায় ৯১ দশমিক ৫ ভাগ সোডিয়াম ক্লোরাইডের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমদানি নিষিদ্ধ খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে এগুলো আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কাস্টমস এক্টের পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারেক মাহমুদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *