বাবরি মসজিদ নিয়ে নির্মিত ‘রাম কে নাম’ দেখাতে দেয়নি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের বহুল আলোচিত মসজিদ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘রাম কে নাম’ প্রদর্শনের অনুমতি দিল না প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। এঘটনা ঘটেছে হায়দরাবাদের পর এবার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়!
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এই ছবিটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিল কিছু পড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তূপক্ষের এই আচরণে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের অভিযোগ, কর্তূপক্ষ কার্যত হুমকি দিয়ে এই ছবি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
পড়ুয়াদের মতে, কর্তূপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ। কোনও কোনও পড়ুয়ার মতে, ছবি প্রদর্শন বন্ধ রাখার পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে। পড়ুয়াদের মতে, ছবিটি তৎকালীন বাবরি মসজিদ ভাঙার সময়ের উল্লেখযোগ্য দলিল।
এদিকে এ বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বাবরি মসজিদের স্থানে রামের জন্মভূমি থাকার বিষয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে নির্মোহী আখড়াওয়ালারা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বাসই আসল, নথি নয়। তাদের সব নথি ডাকাতি হয়ে গেছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বেঞ্চের সামনে নির্মোহী আখড়ার পক্ষে বলা হয়, এত শতাব্দী পর এ স্থান যে রামচন্দ্রের জন্মভূমি ছিল, সে কথা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। ওই বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি এস এ বোবডে, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস এ নাজির।
আদালতের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, বেথেলহেমে যীশুর জন্ম নিয়ে কি প্রশ্ন উঠেছে বা পৃথিবীর কোনো আদালতে এ নিয়ে মামলা হয়েছে!
নির্মোহী আখড়ার হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী সুশীল জৈন। আদালতের পক্ষ থেকে নির্মোহী আখড়াওয়ালাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিতর্কিত এলাকায় নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করার মতো কোনো নথি বা মৌখিক প্রমাণ রয়েছে কিনা। এর জবাবে নির্মোহী আখড়ার আইনজীবী বলেন, ১৯৮২ সালে একটি ডাকাতির ঘটনায় যাবতীয় নথি চুরি হয়ে গেছে।
এর আগে প্রথম দিনের সওয়ালে সুশীল জৈন সেবায়েতের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সপক্ষে যুক্তি দেখান। তিনি বলেন, কোনো মুসলমান অন্তত ১৯৩৪ সাল থেকে এখানে ঢোকার চেষ্টাই করেনি। বিতর্কিত দুই দশমিক ৭৭ একর জমিরই দখল চেয়েছে নির্মোহী আখড়া।
গেল বছরের ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানানোর আবেদন জানিয়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের কয়েকজন সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী নেতা বলেছেন, আমরা সাধারণ মানুষদের অনুরোধ করছি, গুজবে কান না দিয়ে বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ভরসা করুন। তারা বরেন, এই পুরো ইস্যুটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুটি ব্যবহৃত হচ্ছে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে বিভাজনের উদ্দেশ্যেও।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে করসেবক নামে পরিচিত উগ্রপন্থি হিন্দুরা ষোড়শ শতকের বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়৷ মসজিদের জায়গায় রামের জন্মভূমি ছিল বলে দাবি করে সেখানে মন্দির করতে চায় তারা৷
২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ওই জমি তিন পদ্ধতিতে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়৷ তবে মূল অংশ পায় হিন্দুরা৷ হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় উভয় পক্ষ৷


