পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ত্রিপুরা রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপির হাতে গণতন্ত্র ধর্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই-এম) দলের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পবিত্র কর।
৭ ডিসেম্বর শুক্রবার ত্রিপুরা পুলিশের মহা নির্দেশক (ডিজি) অফিসের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এমন অভিযোগ করেন।
এসময় সিপিআই নেতা পবিত্র কর আরও বলেন, পুলিশ ঠিকভাবে কাজ করছে না। তাই রাজ্যের পুর পরিষদ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো বিশেষ করে বামফ্রন্ট সঠিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছে না। যেসব আসনে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে সেসব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ত্রিপুরা পুলিশকে একাধিকার অভিযোগ জানানোর পরও তারা কোনো কাজ করছে না।
এদিকে বেশ কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলা হয়। এক পর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ছুঁড়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর সিপিআই (এম) নেতারা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশের ডিজি তাদের সঙ্গে এসে দেখা না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এ বিক্ষোভ চলবে। পরে পুলিশের ডিজি বিক্ষোভকারীদের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে ডেকে নিয়ে কথা বললে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তিন সংসদ সদস্য শঙ্কর প্রাসাদ দত্ত, জীতেন্দ্র চৌধুরী, ঝর্ণা দাসবৈদ্য, পবিত্র কর প্রমুখ।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রা নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল টানাপড়েনে গতকাল পর্যন্ত পাল্লা ভারী ছিল তৃণমূলের। তেব শুক্রবার খেলা অনেকটাই ঘুরে গেল বিজেপির অনুকূলে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপির রথযাত্রার জন্য অনুমোদনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তবে শুক্রবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় সংশোধন করে রাজ্য সরকার এবং বিজেপি’কে আলাপের মাধ্যমে রথযাত্রার রূপরেখা তৈরি করার আদেশ দিল।
সারাদিন শুনানির পর গতকালের নিষেধাজ্ঞা যাতে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত যথেষ্ট কর্মসূচি বাতিল করা হয়। হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তার অর্থ, রথযাত্রা করা যাবে, তবে শর্ত সাপেক্ষে। এই রায়ে বলা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল আগামী বুধবারের মধ্যে বিজেপির তিনজন প্রতিনিধির সাথে দেখা করবেন এবং রথযাত্রার রূপরেখা তৈরি করবেন।
এই রায় মানুষের জয়, গণতন্ত্রের জয়, বলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপির তরফ থেকে আজ কোর্টকে জানানো হয় যে, অক্টোবর মাস থেকে তারা রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে রথযাত্রা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছেন, কিন্তু তাদের সেই সুযোগ না দিয়ে শেষ মুহূর্তে জানানো হয় যে রথযাত্রা করা যাবে না।


