ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম

ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম

পাথেয় রিপোর্ট : ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় বহিস্কার হয়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস। তার পরিবর্তে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বেগমকে। অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার জেরে আগের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস বহিস্কারের দুইদিন পর নতুন অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। এছাড়া মহসিন তালুকদারকে প্রভাতী শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুক্রবার গভর্নিং বডির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

শুক্রবার (০৭ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নকলের অভিযোগে অভিভাবককে ডেকে অপমান করায় গত সোমবার দুপুরে আত্মহত্যা করেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (০৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী’ হিসেবে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা। মামলার আসামিরা হচ্ছেন-অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে হাসনা হেনা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার (০২ ডিসেম্বর) পরীক্ষা দেওয়ার সময় অরিত্রীর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের স্কুলে যেতে বলে। স্কুলে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, তার মেয়ে পরীক্ষার হলে মোবাইলের মাধ্যমে নকল করছিল। তাই তাকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ খবর শোনার পর স্কুল থেকে অরিত্রী বাসায় ফিরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে গত বুধবার মধ্যরাতে শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে উত্তরার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে হাসনা হেনার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাদের দাবি অরিত্রীর মৃত্যুর জন্য দায়ী অধ্যক্ষ ও শাখার প্রধান শিক্ষক।

অথচ তাদের বাদ দিয়ে মায়ের মতো শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষিকা হাসনা হেনার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। পাশাপাশি দাবি আদায়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে অংশ নেয়া উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ফারিয়া লামিয়া বলেন, ‘হাসনা হেনা ম্যাডাম সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাকে বিনা কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। অচিরেই তাকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা তার মুক্তি চাই।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *