- হাসান মাহমুদ
এক.
জলেভেজা দেহ জড়িয়ে ধরেছে মনু—
চেরাপুঞ্জের জল আমায় করেছে শরমিন্দা
তবু আমি ভুলে যাই লজ্জার লাল আভা :
চেরাপুঞ্জের সৌন্দর্য আর মনু নদীর ছোট ছোট ঢেউ আমায় ভাসিয়ে নেয়
শাহ মোস্তফার দরগায়—
আমি পথহারা মানুষ; আমার রুহ পড়ে পড়ে
কাঁদে মনুনদীরতীরে শাহ মোস্তফার
দরগায়—
আল্লায় বিশ্বাসী আমার মন পুরো জগৎ
ঘুরেফিরে স্থির হয়
আমার মনুনদীরতীরে।
ও আমার মনু, আমায় মিশে নাও তোমার জলে—
দুই.
প্রেমের একটা নোকতা লেগে গেছে জীবনে—
জীবনের রঙ সাদাকালো। সুন্দর। ব্রাত্য।
তবু তুমি জীবনের দগ্ধ দাগ মুছে দাও
প্রেমের ঐশ্বর্যে।
হিরণ্ময় সন্ধ্যায় মনুনদীরতীরে তোমাকে লাগে
অমলধবল দুধসাদা ফুল :
গির্জাপাড়ার আঙিনায় কে গো তুমি হেসে ওঠো মনুসুন্দরী—
তোমার সৌম্য সুকীর্তি হৃদয়ে লিখে যায়
হৃদয়ের গান : তুমি চতুর চঞ্চল হরিণীর মতো সবুজে এঁকে নাও চঞ্চলতা—
তিন.
জলেরদামে যাচ্ছে জীবন তবুও দুঃখ নাই—
সখিনার কলঙ্ক মনুতে ভেসে যায় :
তবু জীবনের দামে নিলাম ওঠে দেহের খাম—
জীবনের রঙে দেখি কেবল জীবনেরই
বদনাম।
চার.
এইসব বৃষ্টিভেজা দিনে মনুনদী আরও সুন্দর হয়ে উঠছে ঠিক তোমার মতো—
তোমার চিবুক আর গ্রীবার মতো নেচে উঠছে নদী : জলটলমল নদী যায় ভাটিতে জলতরঙ্গে—
জলের নাচন দেখে করোটিতে ভেসে ওঠে
তোমার জলশরীরের দৃশ্য; কি সুন্দর সেই দৃশ্য।
আমার দরবেশ ভঙ্গিমা ভেঙে যায় জলের উজান দেখে—
ও মৌশ্বরী! তুমি যতই ছলে ভাসো : জানো তো; কবিরা পৃথিবীতে রাখে তালু থেকে নাভির খবর।
পাঁচ.
দুখের দাগ মুছে দাও প্রেমের পরশে—
গোলাপের দাগ মুছে দেয় যেমন তার কাঁটা
তুমিও ঠিক তাই :
আমার এলোমেলো অপ্রস্তুত জীবনের
বিরাগ তুমি।
মনুনদীরতীরে
আমাদের ফুলের সংসার।
যেমন দুখে বিভাব হও তুমি আমিও হই তাই;
মূলত গোলাপের সুখ তার কাঁটার মুখে
এটা তোমার অজানাই—
লেখক, কবি, সম্পাদক।


