পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ আরো দুইজন না ফেরার দেশে চলে গেল। গতকাল শনিবার সকালে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দগ্ধ শিশুসহ দু’জন মারা যান। তাদের একজন মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী জারিফ (১৪), অন্যজন স্কুলের কর্মচারী মাসুমা (৩৮)। দু’জনই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ নিয়ে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে হলো ৩৫ জন। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জন মারা যান।
এ দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী জারিফ শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। জারিফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা: শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় জারিফ। তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
জারিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা-মা ও স্বজনরা। শোকাহত বাবা মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ত। উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডে তাদের বাসা। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। তিনি জানান, তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়ে।
অপর দিকে গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী মাসুমা। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা: শাওন বিন রহমান জানান, মাসুমার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
নিহত মাসুমার স্বামী মোহাম্মদ সেলিম হাসপাতালে জানান, আমার স্ত্রী মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করত। তাদের বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। মাসুমার বাবার নাম আবুল কাশেম। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঢাকায় তুরাগের নয়ানগর শুক্রভাঙ্গা এলাকায় তাদের বাসা।
দগ্ধ ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, দু’জনকে ছাড়পত্র : যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মেহাম্মদ নাসির উদ্দিন। গতকাল শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। তিনি জানান, একই সাথে এ ঘটনায় দগ্ধ রাফসি (১২) ও আয়ান খান (১২) নামের দুই শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তিনি আরো জানান, এখনো জাতীয় বার্নে ৩৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজন। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সিবিআর ক্যাটাগরিতে ৯ জন। বাকিরা অন্যান্য ওয়ার্ডে ভর্তি। আগামী এক সপ্তাহে আরো ১০ জনকে পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, বিদেশী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসায় আমাদের কী কী ওষুধ দরকার সেগুলো আমরা আগে থেকেই কিনে রাখছি বলে জানান তিনি।
গত ২১ জুলাই সোমবার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। নিহতদের অধিকাংশই স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী। এ ছাড়া দুই শিক্ষিকা, কর্মচারী ও অভিভাবক রয়েছেন।


