রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন
মিয়ানমারে ফিরতে না চাওয়া
একটি ভয়ঙ্কর গল্প
একটা দুঃস্বময়ে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছিল মিয়ানমার থেকে আগত মুসলমান রোহিঙ্গাদের। কী কারণে প্রত্যাবাসনে রাজি হতে চায় না রোহিঙ্গা্রা। এটা খুবই ভয়াবহ একটি রূপ। কারণ, পৃথিবীর মানবাধিকার সংগঠনসহ বিশেষত জাতিসংঘকে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত বলই আমরা মনে করি।
আমরা জানি, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতন ও মিয়ানমার সরকারের বৈরী মনোভাবের কারণে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিয়েছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ সরকারের এ ভূমিকা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।
এত এত মানুষকে পৃথিবীর কেউই বলবেন না যে, তাদেরকে চিরদিনের জন্য আশ্রয় দেওয়া হোক। নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সবাই একমত। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহল। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার তৎপর।
মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করেছে। কিন্তু আলোচনার কোনো শেষ খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের অব্যাহত তৎপরতায় এবং বিশ্বমহলের চাপে তারা প্রত্যাবাসনে সম্মতও হয়েছে, যদিও তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে কথাটা শুরুতে বলেছিলাম, রোহিঙ্গারা সমর্যাদায় ও নিরাপদে তাদের বাসভূমিতে থাকতে পারবে কি না এ নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলেরও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেবল এ সন্দেহ করে বসে থাকলে যে হবে না তাও ভাবনীয় বিষয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসন করার কথা।
আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ অযৌক্তিক নয়। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর আচরণে স্বস্তিদায়ক পরিবর্তন এখনো ঘটেনি। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সম্যক অবহিত। তবু বাংলাদেশের তৎপরতায় এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপে তারা প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার ইয়াংহি লিও একই কারণে প্রত্যাবাসন উদ্যোগ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ব্ল্যাশেলেট বলেছেন, এ প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের জীবন ও স্বাধীনতা চরম ঝুঁকিতে পড়বে। তাঁর দপ্তর এখনো রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, গুম ও গ্রেপ্তার করার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক ঘটনাবিষয়ক অভিযোগ পাচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর অর্থ তাদের আবার সহিংসতা ও নিপীড়নের মধ্যে ঠেলে দেওয়া।
যত বিবেচনাই করা হোক না কেন? বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সবাইকে উদ্যোগী মনোভাব দেখাতে হবে। এই দুশো তিনশো করে কখনোই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। হাজার হাজার থেকে এর সংখ্যা লাখো গুণে বাড়াতে হবে। তখনই রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমি ফিরে পাবে। আর বাংলাদেশও নিরাপদ হবে।


