মুরব্বী মানাটা জরুরি

মুরব্বী মানাটা জরুরি

মুরব্বী মানাটা জরুরি

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-উস্তাদগণ মুরব্বী মেনে চলেন সব সময়। ছাত্রজীবনে তালিমী মুরব্বী। আবার কর্মজীবনেও একজন মুরব্বীর নিয়ন্ত্রণে চলে কওমী অঙ্গনের ছাত্র-শিক্ষক সকলেই।

এ ধারাটা আবহমান কাল থেকে চলে আসছে। প্রত্যেক যুগেই এই নিয়মটা ছিল। এর দ্বারা উপকৃত হয় সকলে। ছাত্ররা পড়াকালীন জমানায় কোন মুরব্বীর আয়ত্বে থাকলে, তার লেখা-পড়ায় তারাক্কি হয়। ঠিক কর্ম জীবনে কোন মানুষ যদি বড় কোন মুরব্বীর পরামর্শ নিয়ে চলে, তাহলে তার জীবন সুন্দর হয়। এলোমেলো চলা- ফেরা, উল্টা- পাল্টা চিন্তা- চেতনা থেকে সে নিজেকে হেফাজতে রাখতে পারে।

লাগাম ছাড়া ঘোড়া কিন্তু দিগবিদ্বিক ছুটতে থাকে। কোথায় কোন জায়গায় গিয়ে ঘোড়া দাঁড়ায় সেটা কিন্তু সওয়ারী বুঝতে পারে না। ঘোড়া বেসামাল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ঘোড়ার আরোহী আর স্থির থাকতে পারে না। একটা কঠিন বিপদের সম্মুখীন হতে হয় সওয়ারীকে।

ঠিক যাদের মুরব্বী নেই, তারা কিন্তু লাগাম ছাড়া ঘোড়ার মতো। ওরাও দিগবিদ্বিক ছুটে চলেছে। যেখানে খুশি সেখানে যাচ্ছে। যা ইচ্ছা তাই করছে।

আমাদের এই কওমী অঙ্গনের বহু আলেম এখন লাগামহীন। কোন মুরুব্বী নেই তাদের। কোন হক্কানী রব্বানী আলেমের সাথে যোগাযোগ নেই। শুধু নিজের খেয়াল খুশিমত চলেন। আর এই নিজ খেয়ালীপনায় নানাবিধ সমস্যার শিকার হচ্ছে। ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। গোমরাহী প্রবেশ করছে তাদের মাঝে।

আগেকার দিনে কিন্তু এরকম ছিল না। আমাদের পূর্বসূরী ওলামায়ে কেরাম সকলেই মুরব্বী মেনে চলতেন, কোন কামেল শায়েখের কাছে সময় ব্যয় করতেন। ফারেগ হওয়ার পরে প্রত্যেক আলেম কোন আল্লাহর ওলীর খেদমতে নিজেকে সঁপে দিতেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী জীবন চালাতেন।

ইদানীং বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের অঙ্গনের কিছু কিছু ভাই এখন একেবারে মুরব্বী ছাড়া। কোন অভিভাবক তাদের নেই। একদম বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলেছে।

ওসব ভাই বন্ধু যে কোথায় চলেছে আল্লাহ মালুম। ওদের বক্তৃতা, ওদের লিখনী, ওদের চাল- চলন, সব কিছু প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে লোক সমাজে।

অভিভাবক ছাড়া ভাই বন্ধুগণের আচার-আচারণে অতিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একেক জায়গায় গিয়ে নতুন নতুন ফেতনার আবির্ভাব ঘটাচ্ছে তারা। বিভিন্ন জায়গায় গেলে দেখা যায়, অভিভাবক ছাড়া মানুষ যেন এক ভিন্ন জগতের। দেশের কোন হক্কানী- রব্বানী আলেমদের সাথে মিল খায় না তাদের কাজ- কর্ম।

আমাদের দেশের নামকরা গোমরাহ ফেরকার মত তাদের অবস্থা। ঐ গোমরাহ ফেরকার যিনি প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনি বলতেন, মুরব্বীর কি দরকার? তিনি যে রকম একা একা কোরআন হাদীস গবেষণা করেছেন। কোন সলফে সালেহীন দের তোয়াক্কা করেন নি, ঠিক তার অনুসৃত পথে পা বাড়ায়েছেন আমাদের কিছু ভাই।

গোমরাহ ফেরকার প্রতিষ্ঠাতা তিনি কোন বুজুর্গ আলেম মানতেন না। কোন পীর মাশায়েখের ধার – ধারেন না। নিজেকে সব জ্যান্তা মনে করেছেন। ঠিক আমাদের এই অঙ্গনের কিছু ভাই, সেই গোমরাহ ফেরকার জালে আবদ্ধ। অহমিকা চরম পর্যায়ের। কোন কিছুকে তারা মুল্য দিতে চান না।

ওলামায়ে কেরামের বড় জামাত, যাদেরকে মানুষ অনুসরণ করে। ভালবাসে। যাদের কথায় হাজারো পথ ভোলা মানুষ সঠিক রাস্তায় এগিয়ে যাচ্ছে। সে সব আলেমগণই এখন ওসব লোকদের চোখের কাঁটা!

ওসব মুরব্বী ছাড়া উঠতি বয়সের কিছু ভাই বন্ধুদের জবান থেকে, লিখনী থেকে রেহাই পাচ্ছে না আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমগণ।

বড় দুঃখজনক। কওমী মাদ্রাসায় পড়ে, আলেম হয়ে, জ্ঞানী হয়ে আজ ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। গোমরাহীর দিকে ধাবিত হচ্ছে তারা। এজন্য সকল আলেমদের কোন না কোন হক্কানী আলেমকে মুরব্বী মেনে চলা উচিত। বিশেষ করে নবীন আলেমদের এ বিষয়ে খুব গুরুত্ব দেওয়া চাই।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *