মুসলিম গণহত্যার অভিযুক্তরা যোগীর সভায়
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘটনাটা অনেক আগের। ২০১৫ সালের। যোগী হিন্দুত্ববাদী চিন্তার নায়ক। মুসলমানদের নাম নিশানা মুছে দেওয়ার ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক নেতা হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়েই খ্যাতি অর্জন করেছেন। সেই ২০১৫ সালে উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে গোমাংসের গুজবের জন্য একদল উন্মত্ত জনতার হাতে খুন হতে হয়েছিল মহম্মদ আখলাককে। সে ঘটনা পৃথিবীর মানুষদের অজনা নয়। দুর্ভাগ্য হলো, সেই অভিযুক্ত খুনিদেরই সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথের সভায় দেখা গেল।গেল রোববারের এমন ঘটনায় স্তম্ভিত বিশ্ববাসী, বিশেষত ভারতের মুসলমানগণ।
একেবারেই লুকিয়ে নয় ওই জনসভার প্রথম সারিতেই বসেছিল খুনিরা। ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লোকসভা নির্বাচনে দাদরি কাণ্ডের এই অভিযুক্তরাই বিজেপির প্রচারে কাজ করছে। জানা গিয়েছে, মহম্মদ আখলাকের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার হলেও তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে এখন নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছে।
যে জায়গায় আখলাককে হত্যা করা হয়েছিল, সেই গ্রেটার নয়ডার বিসারা গ্রামে জনসভা ছিল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের। চারজন অভিযুক্তের মধ্যে মূল অভিযুক্ত বিশাল রানাকে সভার প্রথম সারিতে বসে আদিত্যনাথের জন্য হাততালি দিতে দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৫ বছরের মহম্মদ আখলাককে বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনা হয়। তাঁর ওপর অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি গরু মেরে তার মাংস ফ্রিজে রেখে দিয়েছেন। উন্মত্ত জনতার রোষ থেকে বাদ যায়নি আখলাকের ছেলে দানিশও। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আখলাকের পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করে। আখলাকের হত্যার পর দাদরি গ্রাম দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়।
রোববার যোগী আদিত্যনাথ এই গণহত্যার বিষয়টি তুলে জনসভায় বলেন, বিসারাতে কি ঘটেছিল তা কারোর মনে নেই? সকলে তা জানেন। কি নির্লজ্জভভাবে সমাজবাদী পার্টির সরকার ঘটনাটিকে দমন করার চেষ্টা করেছিল। আমি বলব আমাদের সরকার আসার পর দ্রুত বেআইনি কসাইখানা বন্ধ করতে সফল হয়েছে এবং এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আদিত্যনাথ এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মহেশ শর্মার হয়ে প্রচারে এসেছিলেন।
বিসারার ঘটনা ফের উল্লেখ করে বলেন, “গত দু’বছরে তাঁর সরকারের অধীনে রাজ্যের কোথাও কি বিসারার মতো ঘটনা কি ঘটেছে? এখন কি মা-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হয়? না, এখন আর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয় না।” যোগীর দাবি, তাঁর সরকার রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছে। সন্তুষ্টি বা জাতপাতের রাজনীতি নয়, তাঁর সরকার ২৩ কোটি রাজ্যবাসীর উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।


