মে মাসের আগেই আফগানিস্তান ছাড়া শুরু করবে মার্কিন সেনা

মে মাসের আগেই আফগানিস্তান ছাড়া শুরু করবে মার্কিন সেনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চলতি মাস থেকেই মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছাড়া শুরু করবে এবং আগামী মে মাসের ১ তারিখের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে অর্ধেক মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

বুধবার আবদুল সালাম হানাফি নামে এক তালেবান কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, সেনা প্রত্যাহরের বিষয়ে এ রকম কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলছে তালেবান ও আফগান শীর্ষ রাজনীতিকদের মধ্যে আলোচনা। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনার ফাঁকে তালেবান কর্মকর্তা আব্দুল সালাম হানাফি সাংবাদিকদের এমন তথ্য দিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই তালেবান কর্মকর্তা।

বৈঠকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হানাফি বলেন, আমেরিকানরা আমাদের জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝির মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

হানাফির এমন বক্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করেছে কাবুলে নিযুক্ত এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা।

তবে পেন্টগনের মুখপাত্র কর্নেল রব ম্যানিং বলেছেন, সেনা প্রত্যাহার শুরুর ব্যাপারে কোনো নির্দেশ তারা পাননি। তিনি বলেন, ‘তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকবে, কিন্তু আফগানিস্তানে সেনা অবস্থান পরিবর্তনের কোনো নির্দেশনা (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে) পাওয়া যায়নি।’

এ ছাড়া কাবুলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তাও তাৎক্ষণিক সেনা প্রত্যাহার শুরুর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাছাড়া মস্কো আলোচনায় তালেবানদের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া শের মোহাম্মাদ আব্বাস স্যানিকজাইও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনিও বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি।

এ ছাড়া আফগান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী কোনো নির্দেশনা পায়নি জানিয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র কর্নেল রব মানিং বলেন, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে আফগানিস্তানে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের বিষয়ে কোনো নির্দেশ পাঠানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, মস্কো আলোচনায় তালেবানরা আফগানিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ভবিষ্যত রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তবে এই আলোচনায় নেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

ঘানি সম্প্রতি দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত নিয়ে যে আলোচনা চলছে তাতে অবশ্যই বর্তমান সরকারকে রাখতে হবে।

কিন্তু তালেবান নেতৃত্ব বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনোভাবেই আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কারণ তারা এই সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’ সরকার হিসেবে অভিহিত করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *